নদী দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত “নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও” শীর্ষক একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যুবক মাসফিকুল হাসান টনি বর্তমানে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে পৌঁছেছেন।
এই উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে একটি নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে টনির পদযাত্রার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
নাগরিক সংবর্ধনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, নদী পাড়ের মানুষের ভাঙন ও দুর্দশা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী বিপর্যয় রোধে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় করতে তার এই পথচলা।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের প্রবেশমুখ কুড়িগ্রামের ডিগ্রির চর থেকে ২৪ জানুয়ারি নদীর পাড় ধরে হাঁটা শুরু করে টনি আজ ভোলায় পৌঁছেছেন। বাংলাদেশে নদী ধ্বংস ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে তার এই একক পদযাত্রা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে শেষ হবে। টনি একা হাঁটলেও তার সঙ্গে হাঁটছে সারা দেশের প্রকৃতি ও প্রাণ রক্ষায় সচেষ্ট মানুষ।”
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যুব, নাগরিক, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান শুরু করেন মাসফিকুল হাসান টনি। অভিযানের ১৬তম দিনে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী বড়মানিকা ইউনিয়নে পৌঁছান। এ সময় নদীর পাড় ধরে শতাধিক জলবায়ু কর্মী তার সঙ্গে হাঁটেন।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বিরল প্রতিবাদ রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সমাবেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ও রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, “টনি আমাদের স্বপ্নের জন্য হাঁটছে। তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। প্রকৃতির কল্যাণে আমাদের সবাইকে এভাবেই এগিয়ে আসতে হবে।”
ব্রাইটার্সের চেয়ারম্যান ফারিহা অমি বলেন, নদী দূষণ, দখল ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের বিরুদ্ধে তরুণদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
বক্তারা বলেন, নদী ও জলাভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দখল ও দূষণের কারণে দেশের নদী ও জলাভূমি আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করা এবং জলাভূমি সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে টনির দীর্ঘ পদযাত্রার প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই ধরনের প্রতীকী ও সাহসী উদ্যোগ জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়ের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।