
X
সৈয়দ মোঃ ফয়সল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনটি প্রায় ৩০ বছর পর আবারো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ঘরে এসেছে। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আতাহেরি মোমবাতি প্রতীক নিয়ে ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট পান। প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে ফয়সল মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনে সম্মানজনক জয় নিশ্চিত করেছেন। এ ফলাফল ঘিরে পুরো এলাকায় আনন্দ-উৎসবের মনোভাব বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির পূর্বাভাস মিলছে।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের বিবরণ:
● আহমদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) ২৫৪২৩ ভোট
● মুঃ রেজাউল মোক্তফা আপেল (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) ৪৮১ ভোট
● মোঃ মুজিবুর রহমান (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ) ৭৭ ভোট
● মোঃ রাশেদুল ইসলাম খোকন (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট) ৪৭৯ ভোট
● শাহ মোঃ আল আমিন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ) ৫৩১ ভোট
● মিজানুর রহমান চৌধুরী (স্বতন্ত্র- ঘোড়া প্রতীক) ৬৪৬ ভোট
● সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল প্রতীক) ৬১২ ভোট
এস.এম. ফয়সল ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে বহুবার নির্বাচন লড়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে তিনি সব সময় মাধবপুর ও চুনারুঘাটের মানুষের পাশে থেকেছেন। রাজনীতির মাঠে থাকা অবস্থায় তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় হামলা-মামলা এবং ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হলেও কখনো তিনি রাজনীতি ছাড়েননি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
স্থানীয়দের মতে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ধৈর্য ও ত্যাগের ফলেই এবারের নির্বাচনে তার ঐতিহাসিক বিজয় এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা সুসংগঠিতভাবে মাঠে কাজ করেন। দলের নেতাদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরাও প্রচারণায় অংশ নেন। বিশেষভাবে তার पुत्र সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ২৮টি চা বাগানে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেয়।
তার অপর ছেলে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ এবিএম হুমায়ুন ও সৈয়দ মোঃ সেলিমের বিরামহীন পরিশ্রমও ফলাফলে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
বিজয়ের পর নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিকে যদি মন্ত্রিপরিষদে জায়গা দেওয়া হয় তাহলে তা হবিগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয় হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যে, সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন সৎ, কর্মঠ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনৈতিক নেতা। তার রাজনৈতিক জীবনে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই বলেও তারা দাবি করেন। জনসমর্থনের ভিত্তিতে তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব তার অভিজ্ঞতা ও সততাকে মূল্যায়ন করে তাকে মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব দেবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।