
X
রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, রোজার শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা গেল নড়াইলের লোহাগড়া কাঁচাবাজারে।
অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক থেকে প্রসাধনী-প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে বাড়তি চাপ পড়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম জুমা ও সরকারি ছুটির দিন। সকাল থেকেই লোহাগড়া ও লক্ষ্মীপাশা বাজারে কেনাকাটার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে বাজারে গিয়ে দামের চিত্র দেখে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ ক্রেতা সাধারণ।
ক্রেতাদের ভাষ্য, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়ানো হয়েছে রমজানকে সামনে রেখে।
শহরের প্রধান দুটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১২০ টাকা, টমেটো ৪০–৫০ টাকা, সিম ২০-৩০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫৫–৬০ টাকা, লেবুর হালি ১০০ টাকা, ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০–৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
স্হানীয় বাজারে ইফতার সামগ্রীর দামও বেড়েছে। ছোলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বেসন বুটের ৬৫ টাকা, বেসন খেসারীর ডালের ১১০ টাকা। আর প্রকারভেদে খেজুরের দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে করে, মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে খেজুর ছাড়াই ইফতার সারতে হচ্ছে।
বাজারভেদে পণ্যের দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।
অনেক ক্রেতা বলছেন, রমজানে ইফতার ও সেহরির চাহিদা বাড়ে-জেনেই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে রোজার শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। রোজার শুরুতে লোহাগড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও স্হানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রেতা সাধারণ।