
X
রমজান মাস আসলেই সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর সৈয়দপুরেও শহর-বন্দর-গ্রামের বাজার-হাট, পাড়া-মহল্লায় বাহারি ইফতারি সামগ্রীর বাজার গড়ে উঠে।
স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরা ব্যবসায়ীসহ মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও মানুষজনের চাহিদার এসব ইফতারি সামগ্রীর দোকান গড়ে মোটা অংকের মুনাফা লাভ করেন। কিন্তু, এসব ইফতার সামগ্রী স্বাস্থ্যগত মান নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে কি-না? তা’ তেমন একটা মানুষ জানতে চান না। সচেতন কিছু লোকজন বাজারের এসব ইফতার সামগ্রী না কিনে নিজেরাই বাড়িতে খেয়ে থাকেন।
কিন্তু, সিংহভাগ মানুষজনই এসব বাজারের বাহারি ইফতার সামগ্রী কিনে খাচ্ছেন। আর এসবের স্বাস্থ্য-সম্মত মান অক্ষুন্ন না রেখে তৈরি করে বিক্রি করায় সাধারন মানুষজন পেটের পীড়াসহ নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
লক্ষ্য করা গেছে, এবারে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই মানুষজন জ্বর-সর্দ্দি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের পাশপাশি রমজান মাসে এসব ইফতার সামগ্রী কিনে খাওয়ায় পেটের গ্যাস, আলসারসহ নানারকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশী। এমনও ভুক্তভোগী ক’জন রোগীর লোকজন জানান, রোগীর প্রথমে এমন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে যে, গ্যাস ও ব্যাথার কারণে সোজা হয়ে আক্রান্ত রোগী শুয়েও থাকতে পারছেন না।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন মহিলা রোগীকে দেখা যায়, ডাক্তার গ্যাসের ব্যাথার ইনজেকশন ও ট্যাবলেট দিয়েও ব্যাথা না কমায় হার্টএ্যাটাক হয়েছে কিনা-না ? তা’ পরীক্ষা করান। পরে দেখা যায় হার্ট এ্যাটাক নয়, গ্যাসই মূল সমস্যা। তারপর রোগীকে ব্যাথার ইনজেকশন আর ব্যাথানশক ট্যাবলেট ও গ্যাসের মাসব্যাপী চিকিৎসা পত্র দেওয়া হয়।
এদিকে এসব ইফতার সামগ্রী কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে ? টেল্লু, সালটুসহ কোনোও কেমিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না ? একই তেলে বার-বার ইফতার সামগ্রী ভাঁজা হচ্ছে কি-না ? এসব তৈরিতে নি¤œমানের আটা-ময়দা, ঘি-ডালডা ও তেল ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না ? এসব তদারকি করার যেনো কেহই নেই। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা মানুষজনের স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থার কথা উপেক্ষা করে এসব ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে মোটা অংকের মুনাফা লুটছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শেখ নজরুল ইসলাম জানান, বাহারি রং আর খেতে মুখরোচক এসব ইফতার সামগ্রী কেনার আগে জানতে হবে, এগুলো ফ্রুট গ্রেটের রং কি-না ? ইফতারসামগ্রী ফ্রেশ তেলে ভাঁজা হচ্ছে কি-না ? একই পোড়া তেলে বার-বার ভাঁজা হচ্ছে কি-না ? এসব মানা না হলে মানুষজন এসব খেয়ে হৃদরোগসহ নানারকম জটিল রোগে আক্রান্ত হবেন। এটা দেখা খুব জরুরি। না হলে এগুলো হবে জন-স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা জানান, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এনিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন ইতিমধ্যে কিছু অনিয়ম প্রশাসনের নজরে এসেছে। জরিমানা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো অভিযোগ পেলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হবে।