
X
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক, পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে রমজানে রোজা রেখে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ, পথচারী এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে।
কারখানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মৈকুলি এলাকায় অবস্থিত বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায়। শ্রমিকরা জানান, কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ ‘দিচ্ছি-দিচ্ছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করছে। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের কারখানার ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়াকে প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সকাল থেকে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ
শনিবার সকাল ৭টায় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার বাইরে অবস্থান নিলে কর্তৃপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের আটকে রাখে। এতে ভেতরে ও বাইরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
কারখানার ভেতর ও বাইরে একযোগে বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে আটকে রাখা শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। একাধিকবার শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে সমঝোতার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বেলা পৌনে ১টার দিকে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে লাঠিচার্জ শুরু হয়। এতে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।