
X
নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী
পুলিশের তল্লাশি অভিযানের সময় বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার না করেই পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, এমন অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। তবে পুলিশের দাবি, মনোয়ারুল ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন।
সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এর আবাসিক এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি বিপিএটিসির নিরাপত্তাকর্মী মুহাম্মদ জাফর আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পীরগঞ্জ থানার একটি দল সাভার মডেল থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএটিসির আবাসিক এলাকায় মনোয়ারুলের বাসায় তল্লাশি চালাতে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ভবনের ছাদে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর নিচে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা নিচে গিয়ে মনোয়ারুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুলকে উদ্ধার বা হাসপাতালে নেয়ার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মনোয়ারুল বাবা মুহাম্মদ জাফর আলী বলেন, ‘পুলিশের তল্লাশির সময় আমার ছেলে ছাদ থেকে পড়ে যায়। কিন্তু তাকে উদ্ধার না করে পুলিশ দ্রুত চলে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।’
পুলিশ জানায়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মিমি আক্তার নামে এক তরুণীকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সাভারে নিয়ে আসেন মনোয়ারুলের ভাগ্নে সৌমিক। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌমিকের অবস্থান শনাক্ত করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভারে আসে এবং সাভার মডেল থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএটিসি এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সৌমিককে না পেয়ে তারা ভবনের ছাদে তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাদে থাকা মনোয়ারুল নিচে লাফ দেন। তবে পুলিশের অভিযানের আগেই সৌমিক ও ওই তরুণী বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
ঢাকা জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন সিকদার বলেন, ‘মনোয়ারুল যদি দুর্ঘটনাবশত বা অন্য কোনো কারণে ছাদ থেকে পড়েও থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া পুলিশের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা না করে তাকে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরের পীরগঞ্জ থানা থেকে এসআই কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি দল এসেছিল। বাইরে থেকে কোনো টিম এলে তারা আমাদের সহযোগিতা চায়। তারা জানিয়েছিল, একটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান চালাবে। বাসায় ওই ব্যক্তিকে না পেয়ে তারা ছাদে ওঠে। এরপর কী হয়েছে, সেটি তদন্তেই জানা যাবে। তাদের দাবি, মনোয়ারুল ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন। শব্দ পেয়ে নিচে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযানে আসা দলটি আমাদের থানায় না এসে ফিরে যায়।’