
দেশে সারা বছরই কমবেশি সেমাইয়ের চাহিদা থাকলেও ঈদুল ফিতর সামনে এলে পাল্টে যায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চাক্তাই-রাজাখালী এলাকার চিত্র। বছরের বাকি ১১ মাসের তুলনায় এই এক মাসেই এখানকার কারখানাগুলোর উৎপাদন ও বিক্রি ছাপিয়ে যায় কয়েক গুণ।
পবিত্র রমজান শুরুর পর থেকেই কারিগরদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি কারখানা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এখন তাদের হাতে চলছে সাবেকি আমলের বাংলা, লাচ্ছা ও ভাজা সেমাই তৈরির মহাযজ্ঞ। এক সময় সেমাই তৈরির ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত ছিল চাক্তাই, রাজাখালী, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ ও মাদারবাড়িসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা। বর্তমানে যান্ত্রিক মেশিনের প্রতাপ বাড়লেও ঐতিহ্যের টানে এখনো টিকে আছে হাতে চালিত অনেক কারখানা। সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে প্রথমে ময়দার খামি প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেই খামি ঢোকানো হয় হস্তচালিত ডাইসের ভেতর। ঘানি ঘোরানোর মতো করে দুজন মিলে যন্ত্রটি ঘোরাতে শুরু করলে নিচ দিয়ে সরু সুতোর মতো বেরিয়ে আসতে থাকে সেমাই। এসব কাঁচা সেমাই রোদে শুকিয়ে ব্রয়লারে ভাজা হয়। ভাজার পর লালচে বর্ণ ধারণ করলেই তা বাজারে বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, এখানকার কারখানাগুলোতে এই ঈদ মৌসুমে প্রায় ২০ হাজার টন সেমাই উৎপাদিত হয়। এখনে উৎপাদিত সেমাই চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের জেলাগুলোতেও পাইকারি দরে সরবরাহ করা হয়। তবে সময়ের আবর্তনে এই শিল্পের সোনালী দিন এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে বসেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, আগে এসব এলাকায় শতাধিক হাতে চালিত কারখানা থাকলেও বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলোর অটোমেশিন ও আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে অনেক পুরোনো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের আশায় অটোমেশিনের দিকেই ঝুঁকছেন অনেকে।