মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লার উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকলের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কুমিল্লার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কুমিল্লার মতো সুন্দর শহর একসময় দেশে ছিল না। কিন্তু এখন শহরটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়া বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। হতাশ না হয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
কুমিল্লার উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় এ অঞ্চল বিস্তীর্ণ জলাশয় ও দারিদ্র্যে নিমজ্জিত ছিল। পরবর্তীতে আখতার হামিদ খান সমবায় আন্দোলন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দেশ নানা সংকট অতিক্রম করে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের যাত্রায় প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। প্রতিটি দপ্তরকে নিজ নিজ সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলেখারচর বিরতি থেকে মিয়াবাজার পর্যন্ত অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ। ভুল পরিকল্পনায় নির্মিত ডিভাইডারের কারণে এটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এখানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের প্রস্তাব তিনি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের সীমানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তোলেন।
পদুয়ারবাজারের সাপ্তাহিক হাট সড়ক থেকে সরিয়ে ফিশারিজের খাস জমিতে স্থানান্তরের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সড়কে কোনো বাজার বসতে দেওয়া যাবে না।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।