প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১১৬)

X
সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক
সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক এলাকায় নৃশংসতা যেন থামছেই না। সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই পাহাড় থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে খবরটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, রোববার দুপুরে সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুই দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবু শেখ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শিশুটির বড় বোন জান্নাতুল নিশা ইশপা জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইরার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেয়া হলেও ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটির গলায় শ্বাসনালী কাটা ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতে তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় এক স্কেভেটর চালক দেখতে পান, পুরো শরীরে রক্তমাখা একটি শিশু জঙ্গল থেকে টলমল পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে তাকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি নির্জন পথ বলে জানা গেছে। শিশুটি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তাকে দেখলে সে চিনতে পারবে।