মামলার দ্বন্দ্বে সেচপাম্প বন্ধ, খড়ার আগুনে পুড়ছে বোরো ধানের ক্ষেত

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর

সারাবাংলা

মামলার দ্বন্ধে সেচপাম্প বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। ফলে প্রচ- রোগ আর পানি না পাওয়ায় প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির

2026-03-07T17:25:13+00:00
2026-03-07T17:34:42+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মামলার দ্বন্দ্বে সেচপাম্প বন্ধ, খড়ার আগুনে পুড়ছে বোরো ধানের ক্ষেত
স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম  আপডেট: ০৭.০৩.২০২৬ ৫:৩৪ পিএম  (ভিজিট : ৫৮)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি


মামলার দ্বন্ধে সেচপাম্প বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। ফলে প্রচ- রোগ আর পানি না পাওয়ায় প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির বোরো ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। 

এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের অর্ধশত কৃষক। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী কৃষকরা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ধানের ক্ষেতে পানির ব্যবস্থার দাবি করছেন।

সরেজমিনে শনিবার গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের হাওরের ক্ষেতে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বড় বড় ফাটল আর ফ্যাকাশে ধান খেতে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের নিজাম মুন্সির মা হালিমা খাতুন ও স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। অন্যের এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছে। এ জমির ধান দিয়েই বছর জুড়ে পুরো পরিবারের আহারের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু মারামারির একটি মামলাকে কেন্দ্র কিছু দিন আগে জমিতে সেচপাম্প বন্ধ করে দেয় একটি পক্ষ। এর পর থেকে আর জমিতে পানি দেয়া হয়নি। ফলে পানির অভাবে ধান খেতেই পুড়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই নিজাম মুন্সির পরিবারের। দ্রুত সমাধান হয়ে সোনার ফসলে পানি দেয়ার দাবী তাদের।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেলো ২৪ ফেব্রুয়ারী রাত সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ দুধখালী মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদের সংস্কার কাজ নিয়ে স্থানীয় আলমগীর মুন্সির সাথে একই এলাকার সিদ্দিক মুন্সী, কামাল মুন্সীসহ কয়েকজনের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারী মাদারীপুর সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকে আলমগীর মুন্সির লোকজন জোরপূর্বক দক্ষিণ দুধখালী হাওরের প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির সেচপাম্পটি ভেঙ্গে ফেলে দেয়।

 এঘটনার পর থেকে হাওরের এসব জমিতে পানি দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে প্রায় প্রতিটি জমিতেই প্রচ- খড়া আর অনাবৃষ্টিতে ধানে হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। এসব জমিতে প্রতি বছর অন্তত এক থেকে দেড় হাজার মন বোরো ধান উৎপাদন হয়। এবছর যার পুরোটাই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে।


স্থানীয় নিজাম মুন্সির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিশ্রম করে পরের এক বিঘা জমি বর্গা চাষ করছি। ধানও ভালোই হয়েছিল। কিন্তু গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধানে পানি দিতে না পারায় প্রায় সব ধানই মরে যাইতেছে। এভাবে আর কয়েকদিন থাকলে আর ধানের আশা করা যাবে না। মামলা-হামলা হতে পারে কিন্তু তাই বলে ধানের পানি দেয়া কেন বন্ধ করলো। আমাদের পেটে লাথি দেয়া হইছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।’


একই গ্রামের কৃষক কামাল মুন্সি বলেন, ‘মামলার পরে সেচ দেয়ার পাম্পটি ভেঙ্গে ফেলা হইছে। আর আমাদের চাষিদের মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে, যে কারণে জমিতে আসতে পারি না। সেচপাম্পও মেরামত করতে দেয় না। আমাদের মুখে ভাত দেয়ার মতো আর ব্যবস্থা থাকলো না। এভাবে ফলন্ত ধানগুলোকে মেরে ফেলতেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবী, মামলা হলে আদালতে বিচার করুক, তাই বলে ধানের পানি দেয়ার ব্যবস্থা করুক।’

এব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলা হলেই যে সেচপাম্প বন্ধ করে দিবে বিষয়টি ঠিক না। আমার কাছে সেচপাম্প বন্ধের ঘটনাটি জানা নেই। যে করেই হোক ধানের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফসল নষ্ট করার অধিকার কারোই নেই। যে বা যারাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন এবিষয় গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি। তিনি বিষয়টি পুলিশ ও আদালত বুঝতে বলে দাবী করেছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy