প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২১ পিএম (ভিজিট : ১৮২)

X
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে পরিচিত নাম তরুণ সমাজসেবক সুমন রাফি। রক্তদান থেকে শুরু করে চিকিৎসা সহায়তা, ঘর নির্মাণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ মানবিকতার প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। স্থানীয়রা তাকে “মানবতার ফেরিওয়ালা” ও “রক্তযোদ্ধা” নামে চেনে।
২০০২ সাল থেকে মানুষ মানুষের জন্য এই চিরন্তন বাণীকে ধারণ করে সুমন রাফি মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অসহায় মানুষের শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৮ হাজারেরও বেশি রক্তের ব্যাগের ব্যবস্থা করেছেন এবং জরুরি মুহূর্তে অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন।
রক্তদানের পাশাপাশি তিনি দরিদ্র রোগীদের ওষুধপত্র কেনা, অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার, শীতবস্ত্র ও ঈদ উপহার বিতরণ, ঘর নির্মাণ এবং প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানেও সহযোগিতা করেছেন। তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমীও; বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছেন।
সম্প্রতি বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ করতে দেখা গেছে তাকে। পরমেশ্বরদী গ্রামের শিশু মিরাজ ফকির, দাদপুর ইউনিয়নের শেফালি বেগম, ঘোষপুর ইউনিয়নের মো. ফজলু মোল্যা ও গুনবহা গ্রামের জালাল শেখ সকলের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছেন সুমন রাফি।
কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই তিনি মানবসেবার মহান লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। জালাল শেখ বলেন, “আমি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। সুমন রাফি আমার সব ওষুধের খরচ বহন করেছেন।”
সুমন রাফি নিজেই বলেন, “আমার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। অসহায়ের সেবা করাই আমার ব্রত। গত ২০০২ সাল থেকে ২৪ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি।”
তার এই উদ্যম ও মানবতার কাজ স্থানীয় অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।