প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম (ভিজিট : ৭)

X
ছবি: প্রতিনিধি
আমরা পাহাড়ে সংঘাত-বিভাজন চাই না, আমরা চাই না আদিবাসী জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে অবিশ্বাস ও দুরত্ব বাড়ুক আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস মং প্রধান অতিথি থেকে তিনি কথা বলেন।
'আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্ব সংরক্ষণে আদিবাসী সমাজের সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ করা’ এই প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বান্দরবান আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় রাজার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকেরা জড়ো হন। পরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইং চ প্রু মাস্টার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের উদ্বোধন করেন।
পরে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি ডা. মং উষাথোয়াই এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে ষড়যন্ত্র করা চেষ্টা করছে এবং এখনও নানা ভূঁইফোড় সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রামের যে মূলধারার আন্দোলন পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করে চলেছে।
এসময় বক্তারা সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হল- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান পদক্ষেপ, চলমান সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের যথাযথ সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা ও আদিবাসীদের নিয়ে কোন নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এসময় আদিবাসীদের সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোন অবস্থাতে গ্রহণ করা যাবে না বলে দাবি জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কৃপা ত্রিপুরা, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী রিপন চক্রবর্তীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বান্দরবানে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, খুমীসহ ১১টি জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা বর্ণিল সাজে সেজে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।