
X
সংগৃহীত ছবি
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেছেন, দেশের পরিবেশ ও কৃষি উন্নয়নে খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাল খনন শুধু শুরু করলেই হবে না এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সবুজায়ন এবং পর্যটন সম্ভাবনা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ডের নিমতলী বালুর মাঠে আয়োজিত স্থানীয় গাছা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া তা পুনরায় চালু করেন।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরে গাছা খাল পুনঃখনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গাজীপুর এখন ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তাই খাল—নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করে জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোকে ইটিপি স্থাপন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
শেষে মন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর —২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, গাজীপুরের টঙ্গী—গাছা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ গাছা খাল পুনঃখনন জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের উদ্যোগে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এম মঞ্জুরুল করিম রনি আরও বলেন, খাল দখল ও দূষণ রোধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে এবং খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণকে খাল ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
গাছা খাল উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন’ নামের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এর দুই পাড়ে গড়ে তোলা হবে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ১২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাছা খালের আমূল পরিবর্তন আনা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং ৯.৫ কিলোমিটার এলাকা থেকে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হবে। খালের দুই পাড়ে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে আধুনিক ওয়াকওয়ে (চলাচলের পথ) এবং বসার বেঞ্চ স্থাপন করা হবে।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোঃ ওয়ালি—উল—হক, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো)—এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।