ময়মনসিংহের ভালুকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. হোসাইন (২১), মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. আরিফ (১৭) এবং মো. মেহেদী হাসান (২০)। তারা সবাই ভালুকা উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। দুইজনকে কারাগারে ও বাকি দুইজনকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে পাঁচজন জড়িত আছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যার সঙ্গে ফেসবুকে সম্পর্কের জেরে কিশোরী সেখানে গিয়েছিল, তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এর আগে গত ১৫ মার্চ কিশোরীর পরিবারে কেউ না থাকায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করে। এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ রাতে ভালুকায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই কিশোরী ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ জানায়, ছয় মাস ধরে ফেসবুকে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর। তার সঙ্গে দেখা করতে ১৪ মার্চ রাতে ময়মনসিংহ থেকে বাসে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে যায় ওই কিশোরী। সেখানে এক তরুণ তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যান। কিশোরীর সন্দেহ হলে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এরপর ওই কিশোরীকে একটি খালের পাড়ে ফেলে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।