
X
সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে চিতলমারী উপজেলা এলাকায় হঠাৎ করেই বানরের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, কুমির ও বানরসহ নানা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।
প্রাণি ও পরিবেশবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনের ভেতরে খাদ্য সংকট, অসাধু শিকারীদের তৎপরতা এবং বনদস্যুদের প্রভাবের কারণে বন্যপ্রাণীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে অনেক প্রাণী বন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায়ই বানরের দেখা মিলছে—যা আগে খুব একটা দেখা যেত না। খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এসব বানর লোকালয়ের বাড়িঘরে ঢুকে রান্না করা খাবার খেয়ে ফেলছে। এতে যেমন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি বানরগুলোর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী ইব্রাহীম শেখ জানান, “মাঝে-মধ্যে এলাকায় বানর দেখা যাচ্ছে। লোকজনের ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটছে। অনেক শিশু তাদের দিকে ঢিল ছুঁড়ছে। দলছুট হয়ে পড়ায় তারা চরম বিপাকে আছে।”
পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল বলেন, বনে খাদ্যের অভাব এবং অবৈধ শিকার ও কাঠ কাটার কারণে প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। তিনি বনাঞ্চলে ফলজ বৃক্ষ রোপণসহ এসব অপতৎপরতা বন্ধে জোর দেন।
প্রাণি ও পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানান, খাদ্য সংকট, শিকারী ও বনদস্যুদের তৎপরতা—এসব কারণে প্রাণীরা বন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া মোংলা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রভাবও বনের পরিবেশে চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগের বন কর্মকর্তা নির্মল পাল বলেন, লোকালয়ে আসা বানরদের বিরক্ত করা বা খাবার দেওয়া ঠিক নয়। এতে তারা এলাকায় থেকে যেতে পারে। খাবার না পেলে তারা নিজ আবাসস্থলে ফিরে যাবে। তিনি আরও বলেন, এসব বানর সুন্দরবনের বাইরের কোনো এলাকা থেকেও আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তাই বন রক্ষা, খাদ্য সংস্থান বৃদ্ধি এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।