
X
সংগৃহীত ছবি
মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের বড় খড়ী গ্রাম, একসময় যেখানে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ছিল সীমিত, আজ সেই গ্রামই হয়ে উঠেছে গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মহাইমিন আলম, যিনি মাশরুম চাষকে ঘিরে গড়ে তুলেছেন কর্মসংস্থানভিত্তিক একটি সফল উদ্যোগ।
অল্প পুঁজি ও সীমিত সুযোগ নিয়ে নিজ বাড়ির একটি ছোট ঘর থেকে যাত্রা শুরু করেন মহাইমিন আলম। শুরুতে অভিজ্ঞতার অভাব, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও বাজারজাতকরণের নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি গড়ে তোলেন আধুনিক ও কার্যকর একটি মাশরুম উৎপাদন ও সংগ্রহ কেন্দ্র। বর্তমানে তার এই উদ্যোগ একটি খামারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং গ্রামীণ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তার প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি মাইক্রো-উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক। বড় খড়ী গ্রামসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক নারী এতে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তারা ঘরে বসেই মাশরুম উৎপাদন করে মহাইমিন আলমের কাছে সরবরাহ করছেন, ফলে নিশ্চিত বাজারের পাশাপাশি নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদাও বেড়েছে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নারীদের মধ্যে রয়েছেন নাসিমা খাতুন, ফাতেমা আক্তার, সুচিত্র বসু, কৃষ্ণা বিশ্বাস, রেনুকা বিশ্বাস, রাখি আক্তার, রূপবান বিবি, ইতিকা রানী, আকলিমা খাতুন ও বিউটি খাতুন। তারা প্রত্যেকেই এখন স্বাবলম্বিতার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
নাসিমা খাতুন বলেন, একসময় সংসারে অনেক কষ্ট ছিল, নিজের কোনো আয় ছিল না। এখন নিয়মিত আয় করছি, সংসারে অবদান রাখতে পারছি।
ফাতেমা আক্তার জানান, মহাইমিন ভাই আমাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখন আমরা নিজেরাই উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারছি।
সুচিত্র বসু বলেন, এই উদ্যোগ আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন আমরা কারও ওপর নির্ভরশীল নই।”
কৃষ্ণা বিশ্বাস ও রেনুকা বিশ্বাস বলেন, “নিজেদের আয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালাতে পারছি—এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রাখি আক্তার ও রূপবান বিবি জানান, এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে আরও অনেক নারী উপকৃত হবে।
অন্যদিকে ইতিকা রানী, আকলিমা খাতুন ও বিউটি খাতুন বলেন, এখন আমরা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করছি, সমাজে আমাদের মূল্য বেড়েছে।
প্রতিদিনই এসব নারী তাদের উৎপাদিত মাশরুম নিয়ে কেন্দ্রে আসেন। এখানে শুধু পণ্য বিক্রিই নয়, বরং গড়ে উঠেছে একটি শেখা ও সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াচ্ছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা মহাইমিন আলম বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু ব্যবসা নয়, একটি টেকসই কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিশেষ করে নারীরা ঘরে বসে আয় করতে পারলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মাশরুম বিদেশে রপ্তানি এবং একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, মহাইমিন আলমের এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসায়িক সফলতা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং নারীদের ক্ষমতায়নের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।