বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিদূর্ঘটনার ভবন পরিদর্শন করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ মেডিসিন ভবন পরিদর্শন করেন। এসময় অগ্নিকান্ড রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মেডিসিন ভবনের ৫ম তলার স্টোরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যলয় (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন ভবনে (মেডিসিন ইউনিট) মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটির ৫ম তলার একটি স্টোর থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। এসময় সৃষ্ট ধোয়ায় অক্সিজেন স্বল্পতায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পরে আরও বেশ কয়েকজন রোগী। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হযনি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা কারও ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়েছে। এ নিয়ে গত দেড় বছরের মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ভবনে দুইবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতের দূর্ঘটনায় মারা গেছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশাল নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের বারৈজ্জার হাটখোলার আবুল হোসেন (৬৭)।
কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধু জানান, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকাÐের সময় তার শ্বশুর চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন। তার সর্বদা ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। অগ্নিকাÐের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নীচে নামানো হলে এর কিছুক্ষন পরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বুধবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন অগ্নিদূর্ঘটনার ভবন পরিদর্শন করেন। অগ্নিকান্ডের ধোয়ার বিষক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ রোগীদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি এ ধরনের দূর্ঘটনা রোধে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এসময় বিএনপির জেলা সদস্য মুশফিকুল হাসান মাসুম উপস্থিত ছিলেন।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনির বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনার কারন উদঘাটনে ৬ সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহবায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খান। জেলা প্রশাসন থেকেও এ ঘটনায় আর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দূর্ঘটনার সময়ে ভবনের বাইরে নিয়ে আসা ৬৬ রোগীকে এরই মধ্যে বেডে তুলে দেয়া হয়েছে।