ঈদে সাইয়্যেদা একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখতো, এবার এলো লাশ!

স্টাফ রিপোর্টার, লক্ষ্মীপুর

সারাবাংলা

সাইয়্যেদা (৯) তার বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিবছর ঈদ করতে লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে আসতো৷ যতদিন থাকতো একাই সে বাড়ি মাতিয়ে রাখতো।সবার

2026-03-23T14:05:45+00:00
2026-03-23T14:05:45+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঈদে সাইয়্যেদা একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখতো, এবার এলো লাশ!
কুমিল্লা বাস-ট্রেন ট্রাজেডি
স্টাফ রিপোর্টার, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ২:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৬৩)
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি


সাইয়্যেদা (৯) তার বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিবছর ঈদ করতে লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে আসতো৷ যতদিন থাকতো একাই সে বাড়ি মাতিয়ে রাখতো। 

সবার সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে তার সময় কাটতো। এবারও বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে সে লক্ষ্মীপুর আসার পথে কুমিল্লায় দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে রোববার (২২ মার্চ) রাতে সাইয়্যেদার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে বাড়িতে। এবার আর আনন্দ-উল্লাস নয়, সাইয়্যেদার শোকে স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। তার হাসিমুখ আর কেউ দেখবে না কখনো।

সাইয়্যেদার ফুফা আব্দুর রব ও চাচী শাহিনুর সুলতানা জানায়, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। প্রতি ঈদের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে আসেন। এবার বাড়িতে ফিরে নতুন ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল সবার। কিন্তু এখন স্বজনরা শোকে পাথর হয়ে আছে। একাই সাইয়্যেদা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো, কিন্তু এবার তার লাশ এসেছে বাড়িতে। আর তো কখনো তার হাসি খুশি মুখটা কেউ দেখবে না। বাড়ির উঠানে সেতো আর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠবে না।

জানা গেছে, দুই বছর আগে সিরাজের একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এবার কুমিল্লায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার ছোট মেয়েটিও মারা গেছে। তার বড় মেয়ে আফনান (২২) আইসিইউতে। সিরাজ উদদৌলা ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন র‍য়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, শনিবার ফরিদপুর থেকে মামুন পরিবহণে একটি বাসে সিরাজ তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরে আসছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় বাসিটি দুমড়েমুচড়ে যাত। এতে সিরাজের মেয়ে সাইয়্যেদাসহ ১২ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনায় সিরাজ, তার স্ত্রী রাজিয়া ও বড় মেয়ে আফনান আহত হয়। তারা ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে আফনান আইসিইউতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজ কোরআনে হাফেজ। তিনি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন। এতে তিনি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। তবে তিনি চাকরির কারণে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ফরিদপুরে থাকতেন। ঈদের ছুটিতে তিনি তাদের নিয়ে বাড়ি আসতেন। বাড়িতে তিনি নতুন ঘর নির্মাণ করছিলেন। ওই নির্মাণাধীন ঘরে এসেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে উঠার কথা ছিল।

সিরাজের শ্যালক আবি আবদুল্লাহ বলেন, আমার ভাগ্নি আফনানের অবস্থাও আশংকাজনক। সে আইসিইউতে আছে। আমার বোন রাজিয়ার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে। সে এখন পঙ্গু হাসপাতালে। সিরাজ মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। 

রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সিরাজের ভায়রাভাই লিটন মিয়া বলেন, সাইয়্যেদার লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। এখনো জানাযার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার বাবার আসার কথা রয়েছে। সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy