ঈদের টানা ছুটিতে মহাস্থানগড়ে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান হাজার বছরের ঘুমন্ত নগরী পুন্ড্রবর্ধন এর রাজধানী মহাস্থানগড়।জানা যায়, প্রায় ২

2026-03-24T17:34:28+00:00
2026-03-24T17:34:28+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঈদের টানা ছুটিতে মহাস্থানগড়ে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ৬৭)
পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়
X

পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান হাজার বছরের ঘুমন্ত নগরী পুন্ড্রবর্ধন এর রাজধানী মহাস্থানগড়। 

জানা যায়, প্রায় ২ হাজার বছরের পূর্বের পুরাকীর্তৃত্বে ভড়া রহস্যময় নগরী এক সময় পূর্ব এশিয়ার রাজধানী ছিল।  তখন এ এলাকার রাজা ছিল পশুর রাম। তার রাজত্বকালে এই এলাকায় হিন্দু বিদ্যুষিত ছিল। পশুর রাম রাজা হিন্দু ধর্মের প্রতি তার অগাধ আস্থা ছিল। তিনি হিন্দু ধর্মালম্বীদের দেবতা হিসাবে আখ্যায়িত ছিলেন। তার বোন শীলাদেবী হিন্দুদের দেবী হিসাবে আরোধনা আর্চনা পেয়ে থাকেন। তার শাসন আমলে ব্যাপক প্রভাব ছিল এই এলাকায়। তিনি অন্য ধর্মের জাতিকে প্রাধান্য দিতেন না। 

এর কারণে কথিত আছে, বলখ নগরীর বাদশাহ হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.) পুশুর রাম রাজার এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন। প্রথমে নামাজের জায়গা চেয়ে রাজার কাছে আবেদন করলে তিনি তা মঞ্জুর করেন। নামাজের জন্য জায়নামাজ বিছালে তার জায়নামাজ প্রশস্ত হতে থাকে। এই অলৌকিক ঘটনা রাজা শুনে তাকে সাধারণ মানুষ না ভেবে দরবেশ ভেবে হত্যার নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে পশুর রাম রাজার সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হযরত বোরহান উদ্দিন সহ পশুররাম রাজার প্রধান শীর্ষসহ কিছু লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে পশুররাম রাজা পরাজিত হন। তার বোন শীলা দেবী তখনকার করতোয়া নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর এই এলাকায় আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্মের শুরু হয়। এ ঘটনার কালের স্বাক্ষী হতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা হতে ব্যাপক পর্যটকদের আগমন ঘটে থাকে। 

এবার ঈদে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি থাকায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শুধু মাত্র ঈদের দিনেই ৮হাজার ৫শত ২ জন ভ্রমণ বিপাসু পর্যটক মহাস্থান এই এলাকায় পরিদর্শনের জন্য এসেছিলেন। 

এ ব্যাপারে মহাস্থান যুদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ঈদের দিন খোলা ছিল গোবিন্দ ভিটা, জাহাজ ঘাটা, গোকুল মেদ মন্দির, ঈদের পরের যাদুঘর খোলা থাকায় পর্যটক এসে ছিল ১২ হাজার ১শত ১২ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ১শত ৫ জন ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার টানা ছুটি থাকায় পর্যটকদের আগমন বেশি ছিল। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আনসার সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানে আন্তরিক ভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া টুরিষ্ট পুলিশ প্রতিদিন নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। 

এলাকায় সাজ সাজ রব ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা খেলনা, খাবার ও বিভিন্ন জিনিসের পসরা বসিয়ে বেচাকেনা করায় অনেক দর্শনার্থী খুশি হয়েছে। এলাকায় পর্যটকদের বাড়তি সুবিধা হচ্ছে বিশাল পার্কিং এলাকা, ফুডজোন ও পিকনিক স্পটের রান্না বান্নার জন্য ব্যবস্থা থাকা এবং অনেক পরিস্কার ও সুন্দর পাবলিক টয়লেট ও আগতদের রেস্ট হাউজ এর ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকদের এখন উত্তরাঞ্চলের একমাত্র পর্যটন এলাকা হিসাবে খ্যাতি রয়েছে। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy