দুঃস্বপ্নে পরিণত পাইকগাছার শালিখা সেতু নির্মাণ কাজ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদের উপর শালিখা সেতু এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

2026-03-25T13:18:32+00:00
2026-03-25T13:18:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আবারও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও!
দুঃস্বপ্নে পরিণত পাইকগাছার শালিখা সেতু নির্মাণ কাজ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৬১)
দুঃস্বপ্নে পরিণত পাইকগাছার শালিখা সেতু নির্মাণ কাজ
X

দুঃস্বপ্নে পরিণত পাইকগাছার শালিখা সেতু নির্মাণ কাজ

খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদের উপর শালিখা সেতু এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলমান সেতু নির্মাণ কাজ বর্তমানে মাত্র ৭৩ শতাংশে থমকে আছে। অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে সব সরঞ্জাম ও শ্রমিক উধাও হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিদিন চরম ভোগান্তি এবং জীবনঝুঁকির মুখে পড়ছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নের কাটিপাড়া থেকে তালার খেশরা ইউনিয়নের মধ্যে নির্মাণ হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু। নব্বইয়ের দশকে নদী ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হলে স্থানীয় উদ্যোগে একটি বাসের সাঁকো তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে পাখিমারা টিআরএম ও কপোতাক্ষ পুনঃখনন প্রকল্পের সময় সেই সাঁকো ভেঙে যায় এবং এলাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ শুরু হয়।


পরবর্তীতে সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল নিয়ে এই সাঁকো পার হতে গিয়ে জীবন বাজি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। কাটিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টিতে সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়ার ভয় সবসময় মাথায় থাকে। শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন কলেজ ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।


পাইকগাছা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। ৭ হাজার ১০০ মিটার চেইনেজে নির্মাণ হওয়ার এই সেতুর কাজ ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে হঠাৎ করেই কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ জেডটি (জেভি) রাতের আঁধারে তাদের শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে সাইট ত্যাগ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। জুন ২০২৫ সালে দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করলেও, পরবর্তীতে ৭৩ শতাংশ কাজের পর আবারো রাতের আঁধারে সাইট ছেড়ে চলে যায়।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ জেডটি (জেভি)’র স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জিয়াউল আহসান টিটুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশল মো. শাফিন শোয়েব জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু না হলে তাদের কার্যক্রম বাতিল করা হবে। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন পাঁচ বছরেরও বেশি সময়েও যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শেষ না হয়, তাহলে এর দায় কে নেবে?


এলাকাবাসীর একটাই দাবি দ্রুততম সময়ে শালিখা সেতু নির্মাণ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক, নয়তো তাদের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তেই থাকবে। বিলম্বিত এই সেতু এখন শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং জনগণের অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।








Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy