
চিতলমারীর চিংগড়ী গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে ২০-২৫টি বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার চরচিংগুড়ি গ্রামে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও মনজুর শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে মনজুর শেখ গ্রুপের রাজীব শেখ (২৫) নিহত হন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন। এরপর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, এতে প্রায় ২০-২৫টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।
খবর পেয়ে চিতলমারী ও মোল্লাহাট ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মনজুর শেখ, ইদ্রিস শেখ, মহর শেখ, সাইফুল শেখ ও লেয়াকাত শেখসহ বহু পরিবারের ঘর পুড়ে গেছে। অনেক স্থানে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং গৃহপালিত পশুসহ নানা জিনিসপত্র পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমন ভয়াবহ ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে মনজুর শেখ গ্রুপের দাবি, ২০১২ সালের একটি হত্যাকাণ্ডসহ দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে।
চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জানান, চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং প্রায় দুই ডজনের বেশি ঘর পুড়ে যায়।
চিতলমারী থানার ওসি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।