
X
উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও শিক্ষাবান্ধব করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রস্তাবিত স্থানের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, “এই আঞ্চলিক কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং শিক্ষা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।”
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ নানা কাজে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের বড় ধরনের অপচয় ঘটে। প্রস্তাবিত আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হলে এসব সেবা স্থানীয় পর্যায়েই পাওয়া যাবে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, সহজলভ্য ও কার্যকর করে তুলবে।
জানা গেছে, এ কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আধুনিক টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এখানে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা এই কেন্দ্র থেকে সরাসরি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে তাদের আর ঢাকামুখী হতে হবে না; স্বল্প সময় ও কম খরচে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতে, ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মহাস্থান এলাকায় এ কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত যৌক্তিক। বিশেষ করে মাহি সাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে এটি প্রতিষ্ঠা করা হলে অবকাঠামোগত সুবিধা ও ঐতিহ্য—দুই দিক থেকেই এটি আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মহাস্থানের মতো ঐতিহ্যবাহী এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা কেবল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণই নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির এই সময়োপযোগী উদ্যোগ ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।