পূর্বধলা থেকে কর্মস্থলে ফিরতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ !

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

সারাবাংলা

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কর্মজীবি মানুষেরা কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকা ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারনে

2026-03-28T13:58:16+00:00
2026-03-28T13:58:16+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পূর্বধলা থেকে কর্মস্থলে ফিরতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ !
পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৩২৫)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কর্মজীবি মানুষেরা কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকা ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারনে এমনটা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

 আবার এই সংকটকে পুঁজি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দ্বিগুন টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
 
গতকাল শুক্রবার দুপুরে পূর্বধলা রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকাগামী একমাত্র বেসরকারি ট্রেন বলাকার যাত্রীদের উপচেপড়া ভীর। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবেন। এসব যাত্রীদের ট্রেনের টিকেটের জন্য দীর্ঘলাইনে দাড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারেননি। যারা বহু কষ্টে সংগ্রহ করেছেন তারা যেনো সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন। 


এই স্টেশন কাউন্টার থেকে কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত টিকেটের নির্ধারিত দাম ৯৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি লাইনে দাড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করে পরবর্তীতে যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ শোনা যায়। ডেইলী স্টার পত্রিকায় কাজ করেন পূর্বধলা উপজেলার পানিশা গ্রামের সেতু নামের এক ব্যক্তি। তিনি পরিবাবের ৪জন সদস্য নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন। টিকেটের জন্য দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত না পেয়ে ভীরের চাপে ট্রেনে উঠতে পারবেন না ভেবে সড়ক থেকে রওয়ানা দেন। ট্রেন জারিয়া ঝানজাইল থেকে ছেড়ে পূর্বধলা স্টেশনে আসলে দেখা যায় ট্রেনের ভিতর তিল ধারনের ঠাঁই নেই। 

অনেক কষ্ট করে কিছু যাত্রীদের উঠতে দেখা গেলেও বেশিরভাগ যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারেন নি। বলাকা কমিউটার ট্রেনের টিকেট বিক্রির কাজে নিয়োজিত আছেন মো: আল মামুন। তিনি জানান পূর্বধলা স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এই ট্রেনে ৯৫টি টিকেট বরাদ্দ আছে। তাই যাত্রীদের দাবী ঈদের সময় অন্তত: বগীর বরাদ্দ বাড়িয়ে সীট সংখ্যা বৃদ্ধির। তাছাড়া এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জারিয়া ঝানজাইল থেকে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত একটি আন্ত:নগর ট্রেনের দাবী করে আসলেও সে দাবী পুরণ হচ্ছে না।


এদিকে ঈদের ৭দিন পেরিয়ে গেলেও সড়ক পথের যাত্রীদের হয়রানি কমছেনা। যাত্রীদের কাছ থেকে দিগুণ হারে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসছে। পূর্বধলা থানা রোড সিনএনজি চালিত অটো রিক্সা স্টেশনে গেলে আন্দা গ্রামের হাবিকুল ও সাকিবুল দুই ভাই অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে পূর্বধলা থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজ পর্যন্ত ১০০টাকার স্থলে ২০০টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

 ভাড়া আদায়কারীরা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন ফিরতি পথে যাত্রী না পাওয়ায় ভাড়া কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পূর্বধলার সেহলা ও হোগলা থেকে ঢাকা গামী দুরপাল্লার বাসের টিকেটের দাম  বিভিন্ন কাউন্টার থেকে দ্বিগুন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকার যাত্রী মো: শরিফ খান জানান, জামতলা কাউন্টার থেকে ঢাকা মহাখালী পর্যন্ত ৩৫০ টাকার স্থলে ৬০০টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

প্রতিবাদ করা হলে টিকেট নাই বলে জবাব দিচ্ছে। এ বিষয়ে পূর্বধলা বাজারের বাস টিকেট কাউন্টারে কর্মরত টিকেট বিক্রেতাদের কাজে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। যাত্রীদের অভিযোগ টিকেট বিক্রেতাদের অধিক টাকার লোভ ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমনটি করা হচ্ছে। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে খবর পেয়ে ইতিমধ্যে পুলিশি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েচে। এর পরেও কেউ বেশি নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


 আন্ত:নগর ট্রেনের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, পূর্বধলাবাসীর প্রত্যাশা পুরণে ঢাকা কমলাপুর থেকে পূর্বধলার জারিয়া ঝানজাইল পর্যন্ত একটি আন্ত:নগর ট্রেন চালুর জন্য ইতিমধ্যে রেলপথ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তিনিও আশ^স্থ করেছেন। এই লাইনে একটি আন্ত:নগর ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।   






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy