
X
সংগৃহীত ছবি
হলিউডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন অস্কার নতুন ঠিকানায় যাচ্ছে। ২০২৯ সাল থেকে পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময়ের জন্য এ জমকালো অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠিত হবে না লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। আয়োজনটি স্থানান্তরিত হচ্ছে বিখ্যাত পিকক থিয়েটারে। ২০২৯-৩৯ সাল পর্যন্ত এ নতুন ভেনুতেই বসবে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত-আলোড়িত চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
২০২৯ সালের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ সেটি হবে অস্কারের ১০১তম আসর। একই বছর থেকে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারেও আসছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের সম্প্রচার সহযোগী এবিসিকে বিদায় জানিয়ে অস্কার সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ইউটিউবে, যা ডিজিটাল প্লাটফর্মে বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা আরো বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ আরো দৃঢ় হবে।
২০০২ সাল থেকে ডলবি থিয়েটারই অস্কারের প্রধান ভেনু হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২১ সালে ব্যতিক্রম হিসেবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল ইউনিয়ন স্টেশনে। এবার দীর্ঘ সময় পর আবার বড় ধরনের ভেনু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যা অস্কারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ স্থানান্তরের পেছনে রয়েছে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্সেস এবং বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিনোদন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যানশুটজ এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের (এইজি) মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব। এইজি পরিচালনা করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৩ একরের একটি বৃহৎ বিনোদন কমপ্লেক্স, যেখানে অবস্থিত পিকক থিয়েটার। কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরেই বড় বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য পরিচিত।
অংশীদারত্বের আওতায় পিকক থিয়েটারকে অস্কারের উপযোগী করে তুলতে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মঞ্চ, শব্দ ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লবি ও ব্যাকস্টেজ সুবিধার উন্নয়ন। একই সঙ্গে প্রযোজনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা। পাশাপাশি অস্কারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী নকশাও যুক্ত করা হবে, যাতে সরাসরি সম্প্রচার আরো দৃষ্টিনন্দন ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়।
সম্প্রতি সম্প্রসারিত অংশে বসবে ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা আয়োজন, যা দর্শক ও তারকাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
এইজির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা টড গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘আগামী বছরগুলোয় অস্কারকে নতুনভাবে সাজাতে আমরা একাডেমির সঙ্গে কাজ করব। একাডেমির সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। একসঙ্গে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব, যা সৃজনশীলতাকে উদযাপন করবে, উৎকর্ষকে সম্মান জানাবে এবং বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।’
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্কার আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।