সারিয়াকান্দি যমুনা নদী পাড়ের কৃষকেরা ডিজেলের চরম সংকটে দিশেহারা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ডিজেল সংকটে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদী পাড়ের কৃষকরা ফসলের সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। উপজেলায় ১ টি ফিলিং স্টেশনে

2026-03-29T17:42:55+00:00
2026-03-29T17:42:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সারিয়াকান্দি যমুনা নদী পাড়ের কৃষকেরা ডিজেলের চরম সংকটে দিশেহারা
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম   (ভিজিট : ৫০)
X

ডিজেল সংকটে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদী পাড়ের কৃষকরা ফসলের সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। উপজেলায় ১ টি ফিলিং স্টেশনে ৩ টি তেলের ডিলার আছে কিন্তু তাদের কারও কাছেই নেই ডিজেল। কিছু খুচরা তেলের দোকানে ডিজেল পাওয়া গেলেও তারা প্রতি কেজি ১৫০ টাকা করে বিক্রি করছে। এদিকে ডিজেল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরোসহ বিভিন্ন খেতের সেচ কার্যক্রম। পাম্পে ও ডিলারদের কাছে ধরনা দিয়ে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।


আজ রবিবার সকালে সরেজমিন, সারিয়াকান্দির মুশফিকুর ফিলিং স্টেশন ও ডিজেলের এজেন্ট লোপা এন্টার প্রাইজ এবং সুবোধ সন্ধ্যা বাণিজ্যালয়ে গিয়ে তেলের খোজ করলে জানাযায় তাদের কাছে কোন ডিজেল নেই। ফিলিং স্টেশনে শুধু পেট্রোল ও অকটেন দিচ্ছে চাহিদামতো। পেট্রোল ও অকটেন  এখানে থাকলেও ডিজেল একেবারেই নেই বলে জানায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সারিয়াকান্দি চরের মাঠজুড়ে বোরো ধানের চারা বাড়ন্ত অবস্থায় রয়েছে, যা এখন পুরোটাই সেচ নির্ভর। এছারা ভুট্টার খেতসহ আর কিছু ফসল আছে যাতে সেচ দিতেই হবে। তবে সময়মতো সেচ দেওয়া এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না অনেক কৃষক। যারা পাচ্ছেন, তাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।


পাকুরিয়া চরের কৃষক শফিকুল বলেন, তার তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ রয়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। চরের জমির ফসল একদন সেচ নির্ভর হয়ে থাকে সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরলেও এখন পর্যন্ত কোন ডিজেল সে সংগ্রহ করতে পারেনি। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন কমে যাবে, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।


মুলবাড়ি চরের কৃষক সোনা মিয়া বলেন, আমি পৃরায় ৩৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি এছাড়াও দশ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছে এ বছর। কিন্তু পাম্প তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। পাম্পে ও এজেন্টদের কাছে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে চাষাবাদ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।


মেসার্স সুবোধ সন্ধ্যা বানিজ্যালয়ের প্রোপাইটর সুনিল কুমার প্রামাণিক বলেন, আমি এক মাস আগে ৯ হাজার লিটার তেলের চাহিদাপত্র দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আজ তারা টাকা ফেরত দিয়ে বলতিছে আমাদেরকে তেল দিবেনা শুধু পাম্পে দিবে। এখন আমার কাছে তেল নেয় অল্প কিছু যা ছিলো ১ থেকে ২ লিটার করে যাদের খুব বেশি দরকার তাদেরকে দিচ্ছি। সেটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে আর হয়তো দিতেই পারবোনা। 


সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। পানি অপচয় রোধে আধুনিক সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।


সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, আমরা ট্যাগ অফিসার মাধ্যমে তেলে অবস্থা মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি। ফিলিং স্টেশন ও তেলের এজেন্টগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং খোলা বাজারে অবৈধ বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy