পহেলা বৈশাখ ঘিরে চিতলমারীতে হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

গ্রীষ্ম মৌসুমে একটু শীতল পরশ পেতে বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি তালপাতার হাতপাখার কদর এখনো রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই

2026-03-30T17:24:45+00:00
2026-03-30T17:24:45+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পহেলা বৈশাখ ঘিরে চিতলমারীতে হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৫২)
X

গ্রীষ্ম মৌসুমে একটু শীতল পরশ পেতে বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি তালপাতার হাতপাখার কদর এখনো রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই পাখার ব্যবহার এখনও ব্যাপক। দিন দিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এই পাখার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডাকাতিয়া, কৃষ্ণনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক পরিবার পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পাখা তৈরির কাজে কারিগরদের কোনো ফুরসত নেই। রাত-দিন সমান তালে তারা পাখা তৈরি করছেন। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামগঞ্জে বসবে মেলা। বেলুন, বাঁশি ও নানা ধরনের খেলনার পাশাপাশি এসব মেলায় তালপাতার পাখার বিশেষ কদর রয়েছে, যা আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য নারী-পুরুষ পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মৌসুমি পেশা হিসেবে অনেকেই তালপাতার পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন।

প্রচণ্ড গরমে যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হয়, তখন একটু স্বস্তি পেতে তালপাতার হাতপাখার জুড়ি মেলা ভার। তাই বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি এই পাখার চাহিদা কমেনি। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, সেখানে গরমের দিনে মানুষের একমাত্র ভরসা তালপাতার হাতপাখা। বিদ্যুৎ না থাকলে শহরের মানুষদের কাছেও এই পাখার বিকল্প নেই। ফলে শহরেও এর চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের দিলিপ মজুমদার, চিত্ত মজুমদার, সতীন্দ্র নাথ বালা ও আকুল বালাসহ অনেকে জানান, তাদের পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই পাখা তৈরিতে দক্ষ। মৌসুমি পেশা হিসেবে তারা পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করেন। তারা আরও জানান, বলেশ্বর নদীর পাড়ে চৈত্র মাসের শেষ দিনে একটি বিশাল মেলা বসে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এ মেলায় প্রচুর পাখার বেচাকেনা হয়। এছাড়া সারাদেশে এখানকার তৈরি পাখার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এখানে পাখা কিনে নিয়ে যান।

এখানে সাধারণত তিন ধরনের পাখা তৈরি করা হয়— বাট পাখা, ঘুল্লি পাখা ও ভাঁজপাখা। প্রতিটি পাখা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে ভাঁজপাখার দাম তুলনামূলক বেশি, যা প্রতিটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

ডাকাতিয়া গ্রামের রানা মজুমদার জানান, এলাকার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে হাতপাখা তৈরি করছে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেকে বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজ করে আয় করছে। এই আয় দিয়ে তারা নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে তালপাতার হাতপাখার কদর আগের মতোই রয়েছে। যদিও এখন ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহৃত হচ্ছে, তবুও তালপাতার পাখার বিকল্প নেই। এ কারণে মেলা ও স্থানীয় হাটবাজারে প্রচুর পাখা বিক্রি হয়। নববর্ষকে সামনে রেখে বর্তমানে পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার মানুষজন।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy