প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম (ভিজিট : ২০৮)

X
বাগেরহাটের চিতলমারীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন চরম হুমকিতে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, কনডম, ইনজেকশন ও ইমপ্লান্ট পর্যাপ্ত না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা দারুণ ভাবে ব্যহাত হচ্ছে বলে অভিযােগ উঠেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ সহজে রোধ করা যাবে না বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া পরিবার পরিকলাপনা কার্যক্রমের সাথে ২৬ জন মাঠ কর্মী যুক্ত রয়েছেন। যারা প্রতিদিন গ্রামে লোকের বাড়িতে ঘুরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, কনডমসহ অন্যান্য জন্মনিরোধক সামগ্রী সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের কাছে এসকল মেডিসিন ও সামগ্রীপত্র পর্যাপ্ত না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী লোকজনকে সেটি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে বাজার থেকে পিল ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ঝঁকি বাড়ছে বৈকি এমনটি জানালেন বিশেজ্ঞরা। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
উপজেলার আড়ুয়াবর্নি গ্রামের সালমা আক্তার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন এক প্যাকেট জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিতে কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। মজুদ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রোকসনা আক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি জন্মনিরোধক ইনজেকশনের জন্য এসেছিলেন কিন্তু সেটি পাননি এখানে। তাদের অনেকেরই বাজার থেকে কেনার মতো সঙ্গতি নেই বলেও জানান কেউ কেউ।
চিতলমারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ পরিদর্শিকা মমতা বিশ্বাস জানান, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর জন্য প্রতিদিন অসংখ্য নারী-পুরুষ আসছেন কিন্তু তাদের সংগ্রহে না থাকায় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে নানা কথা বলছেন। এগুলি মুখ বুজে তাদের সহ্য করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. রাশেদুল বসিরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি এখন সামগ্রিক ভাবে সারা দেশেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়ে লোকজনকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পরেও জন্মনিয়ন্ত্রণের একটা ঝুঁকি রয়ে যায় বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিরসনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিমত দেন তিনি।