
X
কিশোরী ছামিরুন
আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের দুইদিন পর ছামিরুন নামে এক কিশোরীর হাত-পা বাঁধা নগ্ন মরদেহ কালনী-কুশিয়ারা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত ছামিরুন উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পূর্ব পিঠুয়াকান্দি গ্রামের মৃত নবী মিয়ার কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে তার পিতা নবী মিয়া মারা যান। এরপর মা সাহানা বেগম সন্তানদের নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমান এবং গাউছিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের ছুটিতে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ছামিরুন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বুধবার দুপুরে পিঠুয়াকান্দি গ্রাম সংলগ্ন কালনী-কুশিয়ারা নদীতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে, যা ছামিরুনের বলে শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছামিরুনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, গত দুইদিন ধরে তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে তার পরনের কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যায়।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, গত সোমবার ওই এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে সন্ধ্যায় মেয়েটিকে সর্বশেষ দেখা গেছে। রাত ৯টার দিকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুইদিন পর নদীর পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুশেনজিৎ চৌধুরী বলেন, মেয়েটি দুইদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চলছে। পাশাপাশি ভিকটিমের চলাফেরা, পরিচিতজন এবং ঘটনার আগের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনাটির সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।