
চিতলমারীতে পাতাপোড়া রোগে বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে বোরো ধান কাটার আগমুহূর্তে 'পাতাপোড়া' রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও শেষ সময়ে ফসলের এই অবস্থায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হীরা-২, হীরা-৯, আলোরন, স্বাতী ও ইস্পাহানি-২ সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে। মূলত চিংড়ি ঘেরের ভেতরেই এসব ধানের চাষ করা হয়, যা স্থানীয় কৃষকদের সারা বছরের খাদ্যের প্রধান উৎস।
সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ের পর বিভিন্ন মাঠে ধানের পাতা শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের কৃষক নির্মল মণ্ডল, মাধব বৈরাগী ও অসীম মণ্ডল জানান, তাদের জমিতে এই রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। দুর্গাপুর এলাকার কৃষক প্রতুল হালদার ও উমাজুড়ি গ্রামের অপূর্ব হীরা জানান, ঝড়ো বাতাসের পর থেকেই পাতা পোড়া শুরু হয়েছে। এতে ধানে চিটা হওয়ার পাশাপাশি ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাতাপোড়া রোগের পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব ও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, মূলত ঝড়ো বাতাসের কারণে ধানের পাতার এই অবস্থা হয়েছে। তিনি কৃষকদের জমিতে পটাশ সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এতে ফলনে বড় কোনো ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।