দালানের ভিড়ে হারাচ্ছে শিকড়: ভালুকায় বিলুপ্তির পথে শীতল মাটির ঘর

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ভালুকা উপজেলায় একসময় গ্রামবাংলার মেঠোপথে হাঁটলেই চোখে পড়ত সারি সারি মাটির ঘর। গরমে শীতল, শীতে উষ্ণ প্রাকৃতিক আরাম

2026-04-05T13:12:31+00:00
2026-04-05T13:12:31+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দালানের ভিড়ে হারাচ্ছে শিকড়: ভালুকায় বিলুপ্তির পথে শীতল মাটির ঘর
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১২ পিএম   (ভিজিট : ৬৬৭)
ভালুকায় বিলুপ্তির পথে শীতল মাটির ঘর
X

ভালুকায় বিলুপ্তির পথে শীতল মাটির ঘর

ভালুকা উপজেলায় একসময় গ্রামবাংলার মেঠোপথে হাঁটলেই চোখে পড়ত সারি সারি মাটির ঘর। গরমে শীতল, শীতে উষ্ণ প্রাকৃতিক আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এসব ঘরের ছিল আলাদা কদর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন আর আধুনিকতার প্রভাবে ভালুকায় এখন সেই মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান আশ্রয় ছিল এই মাটির ঘর। বাড়ির ভিটে তৈরি থেকে শুরু করে দেয়াল নির্মাণ সবকিছুতেই স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা ফুটে উঠত। পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এসব ঘরের চাহিদাও ছিল ব্যাপক। তবে গত এক দশকে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে।


বর্তমানে ইট, বালু ও সিমেন্টের পাকা দালান গ্রামীণ বসতবাড়ির প্রধান রূপে পরিণত হয়েছে। অনেকেই সামাজিক মর্যাদা ও আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে পাকা ঘর নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন, যদিও এতে ব্যয় তুলনামূলক বেশি।


মাটির ঘর বিলুপ্তির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। প্রতি বছর বর্ষার আগে ঘর মেরামত ও লেপন করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। এছাড়া অতিবৃষ্টি বা বন্যার সময় মাটির দেয়াল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, পাকা ঘর নির্মাণের পর দীর্ঘদিন তেমন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও একটি বড় কারণ অনেকে এখন মাটির ঘরকে আর্থিক দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি, দক্ষ মাটির ঘর নির্মাণশিল্পীও দিন দিন কমে যাচ্ছে।


এ বিষয়ে ধীতপুর ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দীন (৭০) বলেন, “আমাদের শৈশব কেটেছে মাটির ঘরে। গরমে পাকা ঘরের চেয়ে মাটির ঘর অনেক আরামদায়ক ছিল। এখন নতুন প্রজন্ম সেই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”


স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মাটির ঘরের বিলুপ্তি শুধু একটি নির্মাণশৈলীর পরিবর্তন নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। তারা মনে করছেন, এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজন সচেতনতা এবং উদ্যোগ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাটির ঘর আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সময় থাকতে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল বইয়ের পাতাতেই মাটির ঘরের গল্প পড়বে।






  বিষয়:   ভালুকা  বিলুপ্তি  শীতল মাটির ঘর 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy