প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৬৬)

X
যুগোপযোগী ড্রেজিং
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কর্ণফুলী নদী ও বন্দর সীমানার নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য খালে ড্রেজিং কার্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে একদিকে নাব্যতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে কোটি টাকা সাশ্রয়ও হয়েছে।
চবকের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার ফলে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে বন্দর সীমানার প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত চ্যানেলগুলোতে ড্রেজিং কার্যক্রম হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ড্রেজিং খাতে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো এবং নাব্যতা রক্ষা নিশ্চিত করছে।
চবকের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট হারবার ও মেরিন সদস্যদের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে এবং কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাণে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে ড্রেজিংয়ের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে।
চবক-এর নিজস্ব ড্রেজার ব্যবহার এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। বিশেষ করে সদরঘাট থেকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উজানে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খালগুলোতে ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় লাইটার জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বার্থিং করতে পারছে, যার ফলে নৌদুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
চট্টগ্রাম শহরের সাথে সংযুক্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখে নাব্যতা বজায় রাখার ফলে শহর থেকে কর্ণফুলী নদীতে পানি নির্বিঘ্নে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আগামী বর্ষায় শহরের জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা থাকবে। এই কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পৃথকভাবে ড্রেজিং করানো হলে ৮৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতো, যা চবক কর্তৃক সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
চবক এর এই পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রমে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এতে নেভিগেশনাল চ্যানেলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে, নদীর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকছে এবং পলি জমার হার কমছে।
ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও বিশ্বস্ত ও আধুনিক হয়ে উঠছে।
চবক-এর এই উদ্যোগ জাতীয় অর্থনীতি ও বন্দরের আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে যুগান্তকারী অবদান রাখছে।