
X
অষ্টগ্রাম থানা
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের নরসিংহ পূর্ববাদ ও খাওরাইল মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় এক কৃষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মাহবুব আলম (৪০), পূর্ব অষ্টগ্রাম (কবিরখান্দান) এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, একই এলাকার বাচ্চু মিয়া, মিজান মিয়া (ড্রেজার চালক) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমিতে জোরপূর্বক ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে তার পাশের ফসলি জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে পড়ে এবং জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং অভিযোগের জেরেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানান ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে খাওরাইল মৌজায় নিজ জমির পাশে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। হামলায় মিজান মিয়া, রাসেল মিয়া, বদর মিয়া, কাকন মিয়া, মাফিক মিয়া ও আঃ অদুদ (লুদু মিয়া)সহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জন অংশ নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা লোহার রড, পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাহবুব আলমকে গুরুতর জখম করে। এতে তার হাত, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় তার পকেটে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ৩২ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পথিমধ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ গোলচত্বর এলাকায় পুনরায় তার গতিরোধ করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে।
বর্তমানে আহত মাহবুব আলম অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার কাছে অভিযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খাঁন বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।