সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্ধারিত স্থানে বাস্তবায়নের দাবিতে ইউনিয়নবাসীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকাল ৫টায় উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, প্রবীন মুরব্বি আব্দুল শহিদের সভাপতিত্বে, জেলা সিএনজি অটোরিক্সা সমিতির কার্যকরী সভাপতি হারুনুর রশিদ তালুকদারের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সহিদুল ইসলাম।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন, গনিগঞ্জ গ্রামের বাবুল মিয়া, মোশাহিদ মিয়া, আব্দুল হেকিম, আব্দুল খালিক, সাব্বির আহমদ, সাবেক মেম্বার কবির আহমদ, পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম, গাজীনগর গ্রামের মাওলানা কবির আহমেদ খান, আসামুড়া গ্রামের রুকন মিয়া, হাসারচর গ্রামের নাজির উদ্দিন, জাহানপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন, নগর গ্রামের বিধুর চন্দ্র দাস, আব্দুন নুর, শামীম আহমেদ, শফিকুল ইসলাম সহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নেতৃবৃন্দরা।
বক্তরা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এই পর্যন্ত আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ নিয়ে নাটক করা হচ্ছে| একটি বিরোধী চক্র আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নিজেস্ব জায়গায় নির্মাণ করতে দিচ্ছে না| বর্তমান চেয়ারম্যান অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থ বছরে ৪ কোটি ১৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাশ করিয়ে এনেছেন| কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ১ জন ইউপি সদস্য (রুশন আলী) হাই কোর্টে রিট করে আমাদের ভবনের কাজ স্থগিত করেছেন। আমার এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই| এক ব্যক্তির কারণে আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না| সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান আমাদের স্বপ্নের ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পরিষদের নিজেস্ব জায়গায় দ্রুত নির্মাণ করে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করুন| না হলে আগামীতে আমরা ইউনিয়নবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো বড় কর্মসূচি পালন করবো।
ইউপি সদস্য রোশন আলী জানান, আমাদের ইউনিয়নবাসীর মতামত না নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম একাই নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য একাই তার পছন্দের জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন| তাই ইউনিয়নবাসীর পক্ষে আমি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছি| আমরা চাই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন যেন ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণ করা হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম জানান, পুরো পরিষদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভূমিতে (গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে গনিগঞ্জ বাজারের পাশে) ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম| যাচাই-বাচাই করে স্থানীয় মন্ত্রণালয় থেকে চলতি অর্থ বছরে ৪ কোটি ১৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা অনুমোদন হয়ে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলাকালে আমার পরিষদের সদস্য রোশন আলী নিজ স্বার্থে হাই কোর্টে রিট করেছে| আমরা যে জায়গা নির্ধারণ করেছি সেটা ইউনিয়নবাসীর মধ্যস্থল জায়গা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নিজেস্ব ভূমি।