শিশুমৃত্যুর ঘটনায় লাকসামে ইউনিটি ট্রমা হসপিটাল বন্ধ

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুমিল্লার লাকসামে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির নির্দেশনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল

2026-04-11T20:12:56+00:00
2026-04-11T20:12:56+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় লাকসামে ইউনিটি ট্রমা হসপিটাল বন্ধ
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ পিএম   (ভিজিট : ১৭১)
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় লাকসামে ইউনিটি ট্রমা হসপিটাল বন্ধ
X

শিশুমৃত্যুর ঘটনায় লাকসামে ইউনিটি ট্রমা হসপিটাল বন্ধ

কুমিল্লার লাকসামে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির নির্দেশনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল হসপিটাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা। 

শিশুমৃত‍্যুর ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিন সদস‍্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটির  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম। 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লাকসাম ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে উপজেলার বাকই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কেমতলী গ্রামের মো. হারুনুর রশিদের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় কেমতলী হাফেজিয়া নূরানী মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হসপিটালটির ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং হসপিটালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো হয়েছে। অনেক স্টাফ হাসপাতাল ছেড়েছে, ভেতরে তেমন কোনো চিকিৎসক বা সেবাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। হঠাৎ করে হসপিটাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং প্রমাণ সংরক্ষণের স্বার্থে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল হসপিটালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি হসপিটালের চিকিৎসা নথিপত্র, অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালন, এবং ঘটনার সময়কার চিকিৎসা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মুহা. শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়া ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা সন্দেহের তীর আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে ঘটনার দিন বিক্ষুব্ধ জনতা হসপিটালের সামনে বিক্ষোভ করে এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওইদিন হসপিটালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা জানান, তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে লাকসাম থানি পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তবে দ্রুত সময়ের মধ‍্যে তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy