প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৫ পিএম আপডেট: ১২.০৪.২০২৬ ২:৩২ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

X
ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কাপ্তাই হ্রদসহ বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়া-ঝরনায় ফুল ভাসানোর মাধ্যমে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করার এই উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে প্রাণের উৎসব হিসেবে পরিচিত। উৎসবের রঙে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ।
এর আগে শনিবার উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু নামে পরিচিত। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজস্ব নাম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী এই উৎসব পালন করে থাকে। চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখের প্রথম দিন- এই তিন দিন মূল উৎসব হলেও প্রায় পক্ষকালব্যাপী এর রেশ থাকে পাহাড়জুড়ে।
উৎসবের প্রথম দিনে পানিতে ফুল ভাসানোর পর ঘরে ঘরে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা প্রবীণদের স্নান করিয়ে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
চৈত্রের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল উদযাপন করা হয় মূল বিজু। ওই দিন সকালে বুদ্ধমূর্তি স্নান করিয়ে পূজা করেন চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ। বিজুর প্রথম দিনের নাম ফুল বিজু। এরপর শুরু হয় মূল অতিথি আপ্যায়ন ও ঐতিহ্যবাহী পাঁজন খাওয়ার আয়োজন।
সবজি, শুঁটকি ও চিংড়ি মাছসহ নানা উপকরণে তৈরি ১১ থেকে ৪১ পদবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করা হয়, যা নতুন বছরে সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্ত জীবনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিজুর দিনে সাতটি বাড়িতে পাঁজন খাওয়া শুভ বলে বিশ্বাস করেন চাকমারা।
নতুন বছর উপলক্ষে বিহারে গিয়ে প্রার্থনাও করেন তারা। এ সময় ঐতিহ্যবাহী পিঠাসহ নানা ধরনের খাবারের আয়োজন থাকে, যার মধ্যে বিন্নি চালের বড়া পিঠা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বৈসাবির মূল আনুষ্ঠানিকতা চললেও পাহাড়জুড়ে এর প্রস্তুতি শুরু হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই।