প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৮)

X
তেল পাচ্ছে না যমুনা চরের কৃষকরা
ভূঞাপুরে জ্বালানি তেল সংকট, বিপাকে কৃষক ও গাড়ি চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে তেল সংকটের কারণে গাড়ি চালক, যমুনা বিধৌত চরাঞ্চলের বোরো ও ভূট্টা চাষসহ শাক সবজির চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া শ্যালো মেশিনে ইরি-বোরোর সেচও দারুণ ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা যমুনা বিধৌত এলাকা অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকাায় সেলো মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। এসব চাষীরা পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল না পাওয়ায় ফসলের লক্ষমাত্রা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষক গণ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পায়ে হেটে এবং নৌকা যোগে তেলের পাম্পে ঘন্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে কখনো ফিরে যাচ্ছে কখনো আবার তেলের পাম্পেই রাত্রি যাপন করছে। আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় অনেক বাইক নিয়ে দুর্গম এলাকায় স্কুল-কলেজ ও অফিস করতে হয়। তারাও তেল বিতরণের দিন ১ থেকে দেড় কিমি লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল পায়। ফলে সময় মত কর্মস্থলে যেতে পারে না।
গাবসারা ইউনিয়নের যমুনার চরের বাসিন্দা বোরো চাষী আব্দুল হালিম জানান, প্রচন্ড রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তেলের জন্য আইছি। কিন্তু এহন দেহি পাম্পে ডিজেল নাই। মালিক পক্ষ বলছে কাইল পরশু তেল আবো।
বাইক চালক যমুনা কলেজের শিক্ষক আখতার হোসেন খান জানান, প্রতিদিন বাইকে কলেজে ক্লাসে যেতে হয়। কিন্তু সময় মত পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। বাইক রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় গেলে সময় অপচয় ও ব্যয় বেশি হয়।
ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট থাকলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধ মজুদ কৃত তেল জব্দ করা হয়েছে। এর পরেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে চোরা কারবারীদের নিকট থেকে অনেকের তেল ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ফরমান শেখ জানান, সারা জেলা ব্যাপি সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়, কিন্ত তেল না পাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
ভূঞাপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বেলাল হোসেন বলেন, আমরা যে তেল পাচ্ছি, তা উপজেলার একজন কর্মকর্তা ট্যাক অফিসারের তত্বাবধায়নে তা বিতরণ করে যাচ্ছি। তবে চাহিদার তুলনায় কম পাচ্ছি।
ট্যাক অফিসার জানান, তেলের বন্টন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে।