
X
আলোচনায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী
নেত্রকোনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯টি ওয়ার্ডের সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মেয়র পদে ৮জনসহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে অর্ধশতাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ প্রতিটি ওয়ার্ডে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ছবিসহ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে নানান ফেস্টুনের মাধ্যমে ভোটারদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপি নেতা বিএনপির মেয়র নমিনী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস.এম মনিরুজ্জামান দুদু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কামরুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কে.আর. খান পাঠান সাহের, সৈয়দ কুতুবুল আলম রানা মীর, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী নেত্রকোনা পৌর শাখার নায়েব আমীর ডা. মো. আবুল হোসেন তালুকদার, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিটির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম ওরফে প্রীতম সোহাগ।
জানা গেছে, বিএনপির মেয়র নমিনী জেলা বিএনপি নেতা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন ৫০০ প্যাকেট ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরন করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের বড়ছেলে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনির নেতৃত্বে টিম রনির সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসীর বিভিন্ন কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী জেলা শহরের প্রতিটি মন্দির পাহাড়ার পাশাপাশি সনাতনী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে জেলা বিএনপি নেতা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের রোষানলে পড়ে ৫৬টি মামলায় হয়রানি, একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডসহ কারাবরণ করেছেন। তরুন প্রজন্মের অহংকার মানবিক জেলা বিএনপি নেতা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি পৌর এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঐতিহ্যবাহী চকপাড়াস্থ খান পরিবারের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. আব্দুল্লাহ আলম মামুন খান রনি আ’লীগের সাথে তীব্র প্রতিদ্ভন্ধিতা করেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রখে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপি নেতা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি ৯টি ওয়ার্ডে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন।
সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস. এম মনিরুজ্জামান দুদু ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এস.এম মনিরুজ্জামান দুদুর সকল এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে আ’লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে অপারেশন ক্লিনহাটে এস.এম মনিরুজ্জামান দুদুকে বাসভবন থেকে সেনাবাহিনী আটক করে আবু আব্বাছ কলেজ ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। রাজনৈতিক কারনে ৩০টি গায়েবী মামলায় হয়রানি, একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে নেত্রকোনা জেলা কারাগার ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবরণ করেন তিনি। রাজনৈতিক কারনে বিএনপি নেতা এস.এম মনিরুজ্জামান দুদুর জেলা শহরের কুড়পাড়স্থ বাসভবনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গনসংযোগ করছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টু জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন তারকা টেনিস খেলোয়ার এবং নেত্রকোনা টেনিস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক । তিনি মদনপুর কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে কাজ যাচ্ছেন। তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টু বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে নেত্রকোনা পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টুর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নেত্রকোনা পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কামরুল হক। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর-বারহাট্রা আসনের নবনির্বাচিত এমপি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সহোদর। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বিএনপির ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন পরিচালনায় তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রখেছেন। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনি নিয়মিত মতবিনিসয় সভা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. কামরুল হক বিগত দিনে রাজনৈতিক কারনে একাধিকবার হামলা, মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি পৌর এলাকার অসহায় দুঃস্থদের মাঝে এবারও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থী মো. কামরুল হকের বেশ পরিচিতি রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারন ভোটারদের সঙ্গে ঘন ঘন মতবিনিময় করছেন।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কে.আর. খান পাঠান সাহের। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক প্রমোদ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ১ম যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট কে.আর খান পাঠান সাহের আজীবন সদস্য নেত্রকোনা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শিল্পকলা একাডেমি, সভাপতি বন্ধু ফাউন্ডেশন নেত্রকোনা, সদস্য প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, সদস্য লায়ন্স ক্লাব ও মধুমাছি কচি কাঁচার মেলা। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী কে.আর.খান পাঠান সাহের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসংযোগ করছেন।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সৈয়দ কুতুবুল আলম রানা মীর পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের কুড়পারস্থ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সৈয়দ সামছুল আলমের সন্তান। ডিজিটাল পৌরসভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রানা মীর এলাকায় প্রচারনা অব্যাহত রেখেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে পৌর শাখার নায়েবে আমীর ডা. মো. আবুল হোসেন তালুকদার ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর জেলা মসলিশের শুরা সদস্য এবং বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি।
তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশন, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নেত্রকোনা আইডিয়াল হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, চেয়ারম্যান আইডিয়াল ল্যাবরেটরী স্কুল, আজীবন সদস্য রেজিষ্ট্রার্ড গ্রেজুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাতপাই ঐতিহ্যবাহী তালুকদার বাড়ীর কৃতিসন্তান ডা. মো. আবুল হোসেন তালুকদার আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছর শাসনামলে মিথ্যা মামলায় কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম ওরফে প্রীতম সোহাগ একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তরুণদের সাথে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নিয়মিত নির্বাচনী জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক ও মানবিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইতিমধ্যে সর্বমহলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি পৌরসভার আধুনিকায়ন, উন্নয়ন করতে স্বল্প সময়ে দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিবিহীনভাবে পৌর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তিনি ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছেন।
পৌর এলাকার হিন্দু, মুসলিম জনগোষ্ঠী ছাড়াও সমাজের পিছিয়ে পড়া সকল জনগোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছেন (যেমন হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়) তাদের সমস্যাগুলো শুনছেন, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ মিঠু, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শওকত জাহিদ খান সজীব, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জেলা তাঁতীদলের সভাপতি সাইফ উদ্দিন আহমেদ লেলিন, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব এম. মোকাম্মেল হক রানা, ৭,৮,৯নং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মিনা আক্তারসহ ৯টি ওয়ার্ডের বিপরীতে অর্ধশতাধিক কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।