
X
হাইকোর্টের আদেশে ৫ মাস সময় পেলেন যাদুকাটা নদীর দুই ইজারাদার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা বালুমহালের নতুন ইজারা সাত মাসের জন্য স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগ। এদিকে নদীর দুইটি বালু মহালের ইজারাদার বছরের প্রথম ৫ মাস দখল না পাওয়ায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ মাস সময় বাড়িয়েছেন আদালত।
দুইটি বালু মহাল নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে ১৪৩২ বাংলার ১২ মাসের ইজারা পেলেও দীর্ঘ ৫ মাস পর দখল পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পৃথক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ মাস নদীর ভোগ-দখল দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুই ইজারাদাররা। রিট আবেদন করার পর গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারক ফাতেমা নজির ও এ এফ এম সাইফুল করিম পৃথক আদেশ দেন।
বালু মহালের দুই ইজারাদার জানান, ১৪৩২ বাংলার এক বছরের জন্য জাদুকাটা নদীর বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলেন তাহিয়া স্টোন ক্রাশার এর প্রো. মো. নাছির মিয়া ও মেসার্স জিনান এন্টারপ্রাইজ এর প্রো. শাহ রুবেল আহমদ। কিন্তু দুইটি বালু মহাল নিয়ে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছত্রিশ গ্রামের জনৈক খোরশেদ আলম গং একটি বালু-পাথর খেকো সিন্ডিকেট চক্রের অসৎ উদ্দেশ্যে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান বিনষ্ট করার জন্য হাইকোর্টে মামলা করার কারণে ইজারা পাওয়ার ৫ মাস পর দখল পান দুই ইজারাদার। তাই ৫ মাসের লোকসানের কারণ দেখিয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেছিলেন তারা। আদালত রিটের আদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুই ইজারাদারকে ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
এরপর আদালতের রিট আদেশের কপি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেন তারা।
যাদুকাটা বালু মহালের ইজারাদার মো. নাছির মিয়া ও শাহ্ রুবেল আহমদ বলেন, ১৪৩২ বাংলার এক বছরে জন্য আমরা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে যাদুকাটা নদীর বালু মহাল ইজারা বন্দোবস্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু জনৈক খোরশেদ আলমের মামলার কারণে আমরা দীর্ঘ ৫ মাস পর মহালের দখল পাই। যার কারণে আমরা প্রথম ৫ মাস কোন প্রকার টোল আদায় করতে পারিনি এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত ১৪৩৩ বাংলার ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রিট আদেশের কপি আমরা সকল কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি এবং বালু মহালের দখলে আছি। এদিকে দুটি বালুমহালের নতুন ইজারা সাত মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আব্দুল মোতালিব খান বলেন, দাপ্তরিক ভাবে এখনো কোন কাগজপত্র পাইনি। তবে তাহিরপুর ইউএনও মহোদয় বলতে পারবেন।
উচ্চ আদালতের রিট আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: শাহরুখ আলম শান্তনু।
তিনি বলেন, যাদুকাটা বালু মহালের ইজারাদারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নতুন করে ইজারা প্রদান কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান ইজারার মেয়াদ আরও পাঁচ মাস বাড়ানো হয়েছে।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া যাদুকাটা বালুমহাল দুটির নতুন ইজারা সাত মাসের জন্য স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত তা নিশ্চিত করেছেন এবং দুই ইজারাদারকে আদালত ৫ মাস সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।