
X
সংগৃহীত ছবি
অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীরই এমন অভিজ্ঞতা আছে—মনে মনে কোনোও বিষয় নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু কাউকে বলেননি, সার্চও করেননি; তারপরও হঠাৎ সেই বিষয়-সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ঘটনাটি কাকতালীয় মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ডেটা বিশ্লেষণ ও অ্যালগরিদমিক পূর্বাভাস।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীর ‘মনের কথা’ সরাসরি পড়া সম্ভব নয়। তবে অনলাইনে তার আচরণ, আগ্রহ ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করে খুব কাছাকাছি একটি অনুমান তৈরি করা যায়—যা অনেক সময় অবাক করার মতো নির্ভুল হয়।
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় একজন ব্যবহারকারী কোথায় ক্লিক করছেন, কোন ভিডিও কতক্ষণ দেখছেন, কোন পোস্টে থামছেন—এসব ক্ষুদ্র আচরণই অ্যালগরিদমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীর আগ্রহের একটি প্রোফাইল তৈরি হয়।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন গুগল ও মেটা এই তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি কিছু না খুঁজলেও, তার আচরণের সঙ্গে মিলে যায় এমন বিজ্ঞাপন সামনে আসে।
শুধু ব্যক্তিগত আচরণই নয়, একই ধরনের ব্যবহারকারীদের তথ্যও এখানে ভূমিকা রাখে। যাদের অনলাইন অভ্যাস, বয়স, অবস্থান বা আগ্রহ কাছাকাছি—তাদের একটি গ্রুপ হিসেবে ধরে বিশ্লেষণ করা হয়। এই ‘লুকঅ্যালাইক অডিয়েন্স’ থেকে অনুমান করা হয়, আপনি পরবর্তী সময়ে কীতে আগ্রহী হতে পারেন।
অনেক সময় ব্যবহারকারী নিজেই বুঝতে পারেন না, তিনি কোনও বিষয়ের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড বেশি থেমে থাকা, একটি ভিডিও অর্ধেক দেখা বা একটি ছবিতে দৃষ্টি স্থির রাখা—এসবই অ্যালগরিদমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হয়ে ওঠে।
কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অবস্থান, কেনাকাটার অভ্যাস বা অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যও যুক্ত হয়। ফলে অনলাইনের বাইরে থাকা আচরণও বিজ্ঞাপন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই মনে করেন, স্মার্টফোন তাদের কথা শুনছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীর আচরণভিত্তিক বিশ্লেষণই এতটাই উন্নত যে, সেটি অনেক সময় মানুষের চিন্তার সঙ্গেও মিলে যায়।