ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কবির-রাশেদা দম্পতির

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

রাস্তার পাশের নিচু খাদে দাঁড়িয়ে আছে মরিচা ধরা টিন আর খুঁটি দিয়ে বানানো একটি ছোট্ট চালা। একপাশে পাটখড়ির

2026-04-19T13:05:57+00:00
2026-04-19T13:05:57+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কবির-রাশেদা দম্পতির
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৯৩)
ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কবির-রাশেদা দম্পতির
X

ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কবির-রাশেদা দম্পতির

রাস্তার পাশের নিচু খাদে দাঁড়িয়ে আছে মরিচা ধরা টিন আর খুঁটি দিয়ে বানানো একটি ছোট্ট চালা। একপাশে পাটখড়ির বেড়া, বাকি তিনদিকে ছেঁড়া কাপড় আর পলিথিনের আচ্ছাদন। এটাই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামের কবির উদ্দিন ও রাশেদা বেগম দম্পতির একমাত্র আশ্রয়। তাদের এই বসত ঘর যেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানি’ কবিতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবির উদ্দিন দিনমজুরের কাজ করেন। স্থানীয় কয়েকজন মিলে চালা বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করে দিয়েছেন। সেখানে স্ত্রী রাশেদা বেগম চায়ের দোকান করেন। দুজনের আয়ে কোনোরকমে চলে সংসার। বড় ছেলে ঢাকায় কাজ করলেও বাবা-মায়ের খোঁজ খবর নেন না। ৮ বছর বয়সী ছোট ছেলে নিয়ে এই ঘরেই বাস করেন তারা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শুধু পলিথিন-কাপড় টাঙিয়ে থাকলেও দুই-তিন মাস আগে পুরনো কয়েকটি টিন দিয়ে কোনোরকমে চালা তৈরি করেছেন। বেড়া ও ভিটা তৈরির সামর্থ্য নেই। সেই ঘরেই একটা কাঠের চৌকি পেতে থাকেন তারা। সামান্য একখন্ড জায়গা থাকলেও নিচু খাদ হওয়ায় তা ভরাট করে ঘর তোলার মতোও সামর্থ্য নেই তাদের। তাই নিরুপায় হয়ে ঝুপড়ি ঘরেই বাস করতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টি হলে খাদে জমে পানি।

কবির উদ্দিন বলেন, ঋণ করে কোনোরকমে টিন দিয়ে ঘরের চাল তৈরি করেছি। কিন্তু ঘরের বেড়া দিতে পারি নাই। জায়গায়ও মাটি ভরাট করতে হবে, সেটা করারও সামর্থ্য নাই। অভাবে পড়ে অনেকের থেকে ধারদেনা করে চলেছি। সরকার বা সমাজের কোনো বিত্তবান যদি আমাদের একটা ঘর এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটা রিকশা কিনে দিতো, তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে পারতাম।
কবিরের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, ঝড়ের সময় ঘরে থাকতে পারিনা। রাত-বিরাতে অনেক সময় প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। বৃষ্টির সময় শিশু সন্তান নিয়ে বসে থাকি। ঘরে পানি পড়ে, ভিজতে হয়। খুব কষ্টে আছি। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা আমরা পাই না। আমাদের দিকে কেউ যদি মুখ তুলে তাকায় তাহলে হয়তো একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।

তাদের প্রতিবেশী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, তারা খুবই দরিদ্র। তাদের থাকার মতো একটা ঘর নাই। ছোট্ট একটু জায়গা আছে, তাও খাদ। ভরাট করার সামর্থ্য নাই। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় বাজারে একটা চায়ের দোকান করে দিয়েছি, সেটা তার স্ত্রী পরিচালনা করে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং সরকার যদি তাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে পরিবারটি একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতো।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, আমরা ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘর ভেঙে গেলে বা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হলে টিন দিতে পারি। তিনি যদি আমাদের কাছে আবেদন করেন তাহলে আমরা তদন্ত করে দেখে সম্ভব হলে চেষ্টা করবো। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy