প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১২ পিএম (ভিজিট : ৬৮)

X
ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী খনন এখন জ্বালানী সংকটের মধ্যে পড়েছে।
ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী খনন এখন জ্বালানী সংকটের মধ্যে পড়েছে। যে নদীটি পাবনার মধ্য শহর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ে প্রতত্তা নদী। প্রয়োজনীয় ডিজেল না মেলায় গত এক সপ্তাহের বেশি প্রকল্পের খননযন্ত্র বা এস্কেভেটরগুলো অলস পড়ে আছে। এতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ, আর বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠিকাদাররা।
সরেজমিনে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে খননকাজে নিয়োজিত যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলো স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। শ্রমিক ও চালকরা কাজের অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন। সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহাদ বিল্ডার্সসহ স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, বাজারে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।
আঁটুয়া হাউজপাড়া এলাকায় এস্কেভেটর চালক জনি বলেন, “গত এক সপ্তাহের বেশি একটুও ডিজেল পাই নাই। মেশিন চালানো তো দূরের কথা, সারাদিন বসে বসে সময় কাটছে। এভাবে বসে থাকলে কাজ আগাবে কেমনে?”
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দীর্ঘসূত্রতায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাবনা শহরের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া বলেন, “বারবার এই খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম চলে আসছে, অথচ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে জনগণের এই বিপুল অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি এবং যন্ত্রপাতির ভাড়ার বোঝা বেড়েই চলেছে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি বর্ষায় নতুন করে খনন করা অংশ আবারও ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই অচলাবস্থাকে ‘সাময়িক’ বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইছামতী নদী পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে আমরা বসে নেই। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, তেল সংকটের বিষয়টি আমরা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুতই এ সংকট নিরসন হবে।
পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রায় ১হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১শ ১০ কিলোমিটার নদী খনন কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে নদী উদ্ধার কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় ইছামতি নদী খনন করা হবে ৩৩ দশমিক ৭শ ৭২ কিলোমিটার। আর কিছু নদী ও লিংক চ্যানেল মিলিয়ে মোট খনন করা হবে ১১০ দশমিক ২১৬ কিলোমিটার। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হবার কথা।