সকাল হলেই রাস্তার দু’পাশে জড়ো হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এরপর দরদাম ঠিক করে কাজের জন্য তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন শত শত শ্রমিক বেচাকেনা হচ্ছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মঠসংলগ্ন সড়কের পাশের শ্রমিকের হাটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। ফলে এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকরা এখানে কাজের জন্য ছুটে আসেন। সকাল হলে এসব শ্রমিক উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মঠের কাছে বাগেরহাট-পাটগাতী প্রধান সড়কের দু’পাশে জড়ো হন। সেখান থেকে দরদাম ঠিক করে মালিকরা তাদের কাজে নিয়ে যান।
বর্তমানে প্রতিদিন একজন শ্রমিক ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় একদিনের জন্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এক মণ ধানের মূল্যের চেয়েও বেশি দামে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে। এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী কচুয়া, নাজিরপুর, ফকিরহাট, বাগেরহাট, চালনা, মোংলা, এমনকি চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন। স্থানীয় শ্রমিকরাও এই হাটে যোগ দিচ্ছেন।
বিশেষ করে দ্বিগুণ মজুরির আশায় প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে বাইরের অনেক মানুষ এখানে আসেন। এ সময় শ্রমিকদের যেমন চাহিদা থাকে, তেমনি তারা তুলনামূলক বেশি মজুরিও পান। ফলে দিন দিন শ্রমিকের এই হাট আরও জমজমাট হয়ে উঠছে।
দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুদেব সিংহ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ কাজের জন্য এই হাটে আসছেন। এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিক ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কাজ করছেন। তবে আকাশে মেঘ দেখা দিলে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি আরও বাড়ে। কারণ তখন কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে চান। তিনি বলেন, এই হাট বসার কারণে এখন আর দূরদূরান্তে গিয়ে শ্রমিক আনতে হচ্ছে না।
শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে আসা নাজিরপুরের দীপক বালা ও মঈন শেখসহ অনেকেই জানান, বছরের এই সময়টাতে তারা তাদের শ্রমের উপযুক্ত মূল্য পান। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এরপর শ্রমিকদের এই অতিরিক্ত মজুরি আর থাকবে না। তাই মৌসুমের এই সময়টায় বেশি আয়ের আশায় বাইরের শ্রমিকরা এখানে কাজ করতে আসেন।