প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম (ভিজিট : ২৪০)

X
সংগৃহীত ছবি
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে।
ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ২নং জোড়াদাহ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম করে চেয়ারম্যান নিজেই একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হয়ে বসে আছেন, ফলে সরকারি নীতিমালা ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে নাম মাত্র কাজ করেই বিল লোপাটের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অরাজকতা যেন দেখার কেউ নেই।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নেতৃত্বে পিআইসি গঠনের কথা থাকলেও অনেক চেয়ারম্যান ক্ষমতার দাপটে ৪-৫টি প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন। এতে একদিকে যেমন কাজের গুণগত মান বজায় নেই,অন্যদিকে তদারকি ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ছে।
এছাড়াও ঐ ইউনিয়নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় কোনো শ্রমিকই কাজ করেনি। ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে বরাদ্দকৃত টাকা ও খাদ্যশস্য সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ইটের সলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে খুব'ই নিম্নমানের ইট ও বালি যা সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। বরং প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পিআইসি গঠনে চেয়ারম্যানদের একক আধিপত্য বন্ধ না করলে এবং নিয়মিত অডিট ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করলে গ্রামীণ অবকাঠামোর এই বরাদ্দ সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কি কাজের বিল বন্ধ করে দিয়েছি এবং একি ব্যাক্তি একাধিক প্রকল্পের পিআইসি হবার নিয়ম নেই যদি কেউ এধরনের কাজে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।