প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৯ পিএম (ভিজিট : ২১৯)

X
নেছারাবাদ উপজেলার তরমুজের ভাসমান হাট
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ও সোহাগদল এলাকার মধ্যবর্তী খালে গড়ে ওঠা শতবর্ষী ভাসমান হাট আজও বহন করে চলেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই হাটে নৌকা ও ট্রলারভিত্তিক বেচাকেনার অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন প্রচুর দর্শক। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা বেপারিরা এখানে ভাসমান তরমুজ বাজারসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য নিয়ে জমজমাট বাণিজ্য করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার বসে এই ঐতিহ্যবাহী হাট। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় কেনাবেচা, যা দুপুর পর্যন্ত চলে পুরোদমে। চলতি বছরও পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে তরমুজের বাজারে দেখা যায় ব্যাপক চাহিদা। ইফতারের অন্যতম প্রধান ফল হওয়ায় তরমুজের দাম ছিল সন্তোষজনক, ফলে বেপারি ও খুচরা বিক্রেতারা ভালো লাভ করতে সক্ষম হন।
তবে রমজান শেষ হওয়ার পরপরই বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। হঠাৎ করে তরমুজের অতিরিক্ত আমদানির ফলে বাজারে সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা। এতে দামে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস। ফলস্বরূপ বেপারি ও খুচরা বিক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
অনেকেই প্রত্যাশিত দামে তরমুজ বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন। বিক্রেতারা জানান, রোজায় যেখানে প্রতিটি তরমুজে ভালো লাভ হয়েছে, সেখানে এখন কম দামে বিক্রি করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মিলছে না। পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেকেরই মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে হতাশা বিরাজ করছে পুরো হাটজুড়ে।
অন্যদিকে, দামের এই পতনে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শতবর্ষী এই ভাসমান হাট শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।