প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১০ পিএম (ভিজিট : ৯৪)

X
সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিলে কৃষকেরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় চলতি মৌসুমে চলনবিল এলাকায় বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। অপর দিকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক সময় অতিরিক্ত দাম দিয়ে বাইরে থেকে ডিজেল কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা।
চলনবিলের তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ডিজেল সংকটের কারণে এবার বোরো চাষাবাদে প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতে। শস্য ভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশের চলনবিল এলাকায় তাড়াশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮ ইউনিয়নে ২২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তাড়াশের চলনবিল এলাকায় ডিজেল চালিত ৭ হাজার ১৫টি সেচ পাম্প রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাধাইনগর ইউনিয়নের কৃষক কে এম জহির রায়হান বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আমি ৬০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করছি। আমার নিজের ২টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প ও ১টি সেচ মটর রয়েছে যা দিয়ে আবহাওয়া ভালো থাকলে সপ্তাহে ৩ দিন জমিতে সেচ দিতে হয়। এতে একদিন জমিতে সেচ দিতে
২৫ লিটার ডিজেল লাগে। এখন ডিজেল সংকটের কারণে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। অপরদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে সেচ মটর দিয়েও ঠিকমতো পানি দেয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, ডিজেলের জন্য সারাদিন পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ১০ লিটার তেল পাওয়ায় যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সারাদিন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। পেট্রোল পাম্পে থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে ডিজেল কিনছি। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকরা কাঁচা -পাকা ধানা কাটা শুরু করেছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠ সেন গুপ্তা বলেন, শস্য ভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা যেন জমিতে সঠিকভাবে সেচ দিতে পারে সেজন্য আমরা কৃষকদের কার্ডের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কার্ড নিয়ে পেট্রোল পাম্পে গেলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। তারপরেও দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় হয়ত কৃষকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না শুনেছি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে দ্রুত এর সমাধান করা হবে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, চলনবিল এলাকার কৃষিখাতের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কাজ করছি। প্রকৃত কৃষকরা যেন সঠিকভাবে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছি এবং আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যারা পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি চলনবিল এলাকায় বোরো আবাদে আর তেমন কোনো সমস্যা হবে না।