প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম (ভিজিট : ৮৫)

X
ফুয়েল কার্ডে রাণীনগরের কৃষকরা পাচ্ছেন জ্বালানী তেল
দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জ্বালানী তেল সংকট। তার উপর বৈশ্বিক কারণে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এতে করে প্রভাব পড়েছে সকল মানুষের জীবন যাত্রায়। বিপাকে পড়েছে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। তারপরও জ্বালানী তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
আর এই কারণেই ভোগান্তি ও হয়রানী কমাতে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে ফুয়েল (জ্বালানী) কার্ড। কৃষকরা যেন খুব সহজেই ইরি-বোরো ধান কাটা, পরিবহন ও মাড়াই কাজের জন্য জ্বালানী তেল, সেই কারণে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষকদের প্রদান করা হচ্ছে কৃষি জ্বালানী কার্ড।
উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। নওগাঁয় উৎপাদিত চালের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। জেলার সকল উপজেলার মাঠ বর্তমানে ইরি-বোরো পাঁকা ধানে স্বপ্ন বুনছে। কারণ ইরি-বোরো ধান হচ্ছে নওগাঁর প্রধান ফসল। কৃষকদের কষ্টের সেই ফসল সহজেই ঘরে তুলতে যেন জ্বালানী তেল পেতে কোনো বেগ পেতে না হয় সেই লক্ষ্যে কৃষি জ্বালানী কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। একজন কৃষক কতটুকু তেল পেলে তার কাজ সম্পন্ন হবে সেই হিসেবে তেলের পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে।
আর সেই কার্ড নিজ নিজ এলাকার তেলের পাম্পে দেখালে প্রয়োজনীয় জ্বালানী তেল পাচ্ছেন কৃষকরা। যদিও লাইন ধরে নিতে হচ্ছে, তারপরও কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। তবে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করার কারণে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের খরচ অনেকাংশ বেড়ে যাবে। ফলে ধান উৎপাদনে লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছে নওগাঁর কৃষকরা। তবে বাজারে যদি কৃষকরা ধানের দাম ভালো পান এবং সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের খরচ বিবেচনা করে ধানের একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, তাহলে হয়তো কৃষকরা কিছুটা লোকসানের হাত থেকে রেহাই পাবেন।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংগারপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক মোস্তাক আহমেদ জানান, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সহজেই জ্বালানী তেল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধি করায় কৃষি উপকরণ সকল কিছুর দাম বেড়ে গেছে। যদি এবার বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়া না যায়, তাহলে অনেক লোকসান গুনতে হবে। তাই কৃষকদের ধান উৎপাদনের খরচ বিবেচনা করে ধানের একটি দাম নির্ধারণ করে দিতে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: মোস্তাকিমা খাতুন চৈতি জানান, চলমান বোরো মৌসুমে অবশিষ্ট সেচ কাজ এবং বোরো ধান কর্তন ও মাড়াই নির্বিঘ্নে করতে উপজেলার কৃষকদের সহজে ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে কৃষি জ্বালানী কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে জ্বালানী তেল সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, কৃষকদের জমি পর্যবেক্ষণ করার পর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কৃষি জ¦ালানী কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া পাম্পে কৃষক শ্রেণির ও অন্যান্য বিশেষ শ্রেণির মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানী তেল সরবরাহ করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাই চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষককে জ্বালানী তেল পেতে কোনো হয়রানী কিংবা ভোগান্তির শিকার হতে হবে না। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই প্রতিটি তেলের পাম্প কঠোর নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১লাখ ৯২হাজার ৩শত ৮০ হেক্টর জমিতে। আর ধান চাষ হয়েছে ১লাখ ৯২হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কৃষকদের জন্য কৃষি জ্বালানী কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। জেলার কৃষকরা যেন নির্বিঘ্নে মাঠের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন সেই লক্ষ্যে সব সময় মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।