সৈয়দপুরে বৈরী আবহাওয়ায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলার অন্যান্য উপজেলার ইরি-বোরো ধান চাষীরা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পানির দামে

2026-05-02T14:50:50+00:00
2026-05-02T14:50:50+00:00
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুরে বৈরী আবহাওয়ায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ২:৫০ পিএম   (ভিজিট : ১৬৩)
সৈয়দপুরে বৈরী আবহাওয়ায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা
X

সৈয়দপুরে বৈরী আবহাওয়ায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলার অন্যান্য উপজেলার ইরি-বোরো ধান চাষীরা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পানির দামে কাঁচা ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। 

সরেজমিনে লক্ষ্য করা গেছে, এ অবস্থা বেশী দেখা দিয়েছে যেসব কৃষকরা নিচু জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বেশী। কারণ, হিসেবে জানা গেছে, নিচু জমিতে আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে একটু আগে-ভাগে এ ধানের চারা লাগানো হয়। যার ফলে আবহাওয়া ভালো থাকলে এসব নিচু জমিতে ইরি-বোরো ধানের ভালো ফলনও হয়। কিন্তু, এবারে ব্যতিক্রমধর্মী এ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় নিচু জমিতে ধান পাকার পর তাড়াতাড়ি এসব ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেও ধান সিদ্ধ ও শুকাতে না পেরে বাধ্য হয়ে চাষীরা কাঁচা ধানই সুযোগ সন্ধানী পাইকার ও মুনাফাক্ষোরদের নিকট পানির দরে বিক্রি করছেন। 

শুধু তাই নয়, এখন প্রায় পুরোদমে সব জমিরই ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কারণ, বৈরী আবহাওয়ার জন্য পাকা ধান কৃষকরা জমিতে রাখতে সাহস পাচ্ছেন না। কখন ঝড়-বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টি হয় ? আর তাতে পাকা ধনি জমিতে ঝরে পড়ার ভয়ে চলছে ধান কাটার ধুম। আর এ সময় নিচু জমির ধান কাটতে ধান কাটার শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে কৃষকদের বিঘা মোটা অংকের টাকা। কিন্তু, ধান কাটার পর আবার পড়তে হচ্ছে এ অবস্থায়। রোদ নেই, বৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া, বেশী চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক, যাদের ধান জমিতে এখনো রয়েছে। পাকতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগবে। তারা এ বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না? এ নিয়ে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

লক্ষ্য করা গেছে, যারা অবস্থাপন্ন কৃষক তারা ধান কেটে বাড়িতে হাউজে (চৌবাচ্চা) ধান ভিজিয়ে রেখেছেন। অনেকেই খাওয়ার জন্য মিল-মালিকদের নিকট চুক্তিতে ধান দিয়েছেন। সে চুক্তি অনুযায়ী মিল-মালিকরা লাভবান হলেও অন্ততঃ তাারা (কৃষকরা) ধানটা তো রক্ষা করতে পারলেন। যখন দরকার পড়বে চাল বা টাকা নিতে পারবেন। কিন্তু, এবারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মিল মালিকরা কাঁচা ধান নিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন বৈরি আবহাওয়ার কারণে। 

এদিকে, সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ছোট ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা। কারণ, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে মজুরদের আকাশচুম্বি পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে সুযোগ-সন্ধানী পাইকার-মুনাফাক্ষোররা বস্তা প্রতি ধান ভেদে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার ওপরে ধান কিনছেন না। যার ফলে, উৎপাদন খরচও উঠবেনা বলে অনেক কৃষক জানিয়েছেন। 

অনেক পাইকার আবার সুযোগ বুঝে ধান কিনতেই চাচ্ছেন না বলে অনেক কৃষক জানান। হয়তো পাইকাররা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধানের দাম আরো কম করতে ফন্দি এঁটেছেন। 

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ব্রক্ষোত্তরের পচা, বাঙ্গালীপুর ইউপি’র লক্ষনপুরের কৃষক হোসেন, সৈয়দপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের কৃষক মজিদ, কালাম, ১০নং ওয়ার্ডের লাল্টুসহ অনেক কৃষক জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান শুকাতে না পেরে আর অভাবের কারণে কম টাকায় বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করছি। তারা জানান, জমির ধান কাটার জন্য মজুরদের টাকা পরিশোধ করতে আর ধার-দেনা থাকায় বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা জানান, বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় ধান ও খড় শুকাবার জায়গা রাস্তা ও মিলগুলোর চাতাল পাওয়া গেলেও শুধু শুকাতে না পারায় অল্পদামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা আরো জানান, এমনিতে আমরা ক্ষুদ্র কৃষক হওয়ায় উৎপাদন খরচ যোগাতে ধান উঠার পর তা’ বিক্রি করে সে খরচ পূরণ করে তারপর নিজেদের চলার ব্যবস্থা করি কিন্তু, এবার তা’ হবে না। 

এদিকে আবহাওয়া বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সমূদ্রে নিম্নচাপের কারণে এ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু, তা’ চলে যাবে। 

স্থানীয় সৈয়দপুর কৃষি বিভাগ জানায়, এবারে সৈয়দপুর উপজেলায় এবারে লক্ষ্যমাত্রার বেশী জমিতে চাষ করা হয়েছে এবং ফলনও বেশী আশা করেছেন তারা। কিন্তু, এ বৈরী আবহাওয়া আর’ কয়দিন বিরাজ করবে তা’ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। (ছবি আছে)






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy