
X
সুরাইয়া জেরিন রনি
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও ব্যক্তিগত ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বগুড়া–জয়পুরহাট সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাবতলী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি এবং গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুরাইয়া জেরিন রনি। সরকারের গেজেট প্রকাশের পর রবিবার রাত ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের নিচতলায় তাকে শপথ পাঠ করানো হয়।
শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত করেন। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন সুরাইয়া জেরিন রনি।
শপথের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার ফলেই দল আমাকে এই সম্মান দিয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাদের আস্থার মর্যাদা রাখতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
এমপি ঘোষনার আগে গত ২১ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ্… মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।”
পোস্টে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে বগুড়ার জনগণ, পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেন, “সারাজীবন আপনাদের মেয়ে ও বোন হয়ে পাশে থাকতে চাই।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে রনি জানান, ২০১৭ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তান হারান। পরবর্তীতে তিনি মাতৃত্বের সক্ষমতাও হারান বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, “রাজনীতির জন্য এর চেয়ে বড় ত্যাগ একজন মায়ের জন্য আর কী হতে পারে এই প্রশ্ন জাতির কাছে রাখছি।”
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক জীবনে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রিজনভ্যানে ওঠার অভিজ্ঞতা সবাই জানে না-শুধু যারা ভোগ করেছে তারাই বোঝে।”
কারাগারে থাকার সময় তার মায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৩৪ দিন পর জেল থেকে বের হয়ে আমি মায়ের কবর দেখেছি।”
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। নারী উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতে চাই।” তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আমি যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।”
বগুড়া ও জয়পুরহাটের স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নারী নেতা সংসদে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামী নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে।