
X
পানিতে ডুবে থাকা পাকা বোরো ধান
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ফুলবাড়ী উপজেলা–এর দুটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫০০ বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকা পাকা বোরো ধান কাটতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ খরচ।
অন্যদিকে পানিতে ভিজে ধানের মান নষ্ট হওয়ায় বাজারে মিলছে অর্ধেক দাম। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
শুক্রবার (৮মে) সরেজমিনে উপজেলার দৌলতপুর ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গড়পিংলাই, বারাইপাড়া, গণিপুর, আড়াপাড়া, ঘোনাপাড়া, পলিপাড়া, লক্ষ্মীপুর, মহেশপুর ও মহদীপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে ডুবে আছে। কৃষকদের তথ্যমতে, এর মধ্যে প্রায় ৫০০ বিঘা জমির পাকা ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। এতে পানি কামড়া ও জোঁকের উপদ্রবের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদীপুর গ্রামের ধানচাষি মিজানুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বলেন, মাত্র চার–পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে তাঁদের পাকা ধানের খেত ডুবে গেছে। এখন পানিতে নেমে ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিক মিললেও এক বিঘা জমির ধান কাটতে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। অথচ সাধারণ অবস্থায় একই জমির ধান কাটতে খরচ হয় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা।
দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক মহিদুল, মান্নান ও মইদুল বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে চাষ করা যায় না। কষ্ট করে ইরি ধান ফলানোর পরও কাটার আগমুহূর্তে বৃষ্টিতে সব পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে ধান ঘরে তুললেও ব্যাপারিরা ভেজা ধানের দাম দিচ্ছেন মাত্র ৬০০ টাকা মণ। অথচ বাজারে ভালো ধানের দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে নির্মিত পানি নিষ্কাশন ক্যানেল অপরিকল্পিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরি সহযোগিতায় ২০২০ সালে উপজেলার বারাইপাড়া এলাকায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬ মিটার ক্যানেল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ক্যানেলটি আবাদি জমির চেয়ে উঁচু হওয়ায় পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হচ্ছে না। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন ও বাঁধ দেওয়ার কারণেও পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণেও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। অল্প পানিতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা গেলেও বেশি পানিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ক্যানেল নির্মাণে কিছু কারিগরি ত্রুটি ছিল, যা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে দ্রুত পরিদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।