
X
অভিযুক্ত ডাঃ আখি
ভোলার চরফ্যাশনে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত প্রসূতি মায়ের নাম জান্নাত। পরিবারের অভিযোগ, কথিত অপচিকিৎসা ও অবহেলার কারণে জান্নাত এবং তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ডাঃ আখি এবং ইকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বিকেলে প্রসব ব্যথা উঠলে জান্নাতকে তার স্বামী কাশেম খন্দকার চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, দালালের মাধ্যমে তাদের প্রথমে মেঘনা ডায়াগনস্টিক-এ নেওয়া হয়। সেখানে ডাঃ আখি আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মা ও গর্ভের শিশুর অবস্থা ভালো রয়েছে এবং স্বাভাবিক প্রসব হবে। তিনি আরও জানান, শিশুর ওজন আনুমানিক সাড়ে ৪ কেজি হতে পারে এবং মাগরিবের আগে অথবা পরে নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।
পরবর্তীতে রোগীর স্বামী বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললে ডাঃ আখি তাদের হাসপাতালে অবস্থান করতে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে জান্নাতকে ইকরা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, জান্নাত সুস্থ অবস্থায় নিজেই হেঁটে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ওঠেন এবং স্বামীর সঙ্গে খাবারও খান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরে এক নার্স প্রেসক্রিপশন দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে বলেন। কাশেম খন্দকার ওষুধ আনতে বাইরে গেলে তাদের ছোট ছেলে মায়ের সঙ্গে ছিল। ছেলের ভাষ্যমতে, ওই সময় জান্নাতকে কয়েকটি ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং শরীর নীল হয়ে যেতে থাকে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, খবর পেয়ে কাশেম হাসপাতালে ফিরে এলেও তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। বরং বারবার অন্য কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে ডাঃ আখি হাসপাতালে এলেও কয়েক মিনিট অবস্থান করে চলে যান। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে ভোলায় পাঠানো হয়।
ভোলায় নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, রোগী আগেই মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা দিলে অন্তত নবজাতক শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব ছিল।
এ ঘটনার প্রতিবাদে চরফ্যাশনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনগণ। মানববন্ধন থেকে ডাঃ আখি এবং ইকরা হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলসহ ৬ দফা দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে সন্ধ্যার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ১০ মে চরফ্যাশনের জনগণের পক্ষ থেকে ইকরা হাসপাতাল ও ডাঃ আখির বাসভবন ঘেরাও এবং ঝাড়ু মিছিল কর্মসূচি পালন করা হবে।